খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জনগণের ইচ্ছাতেই তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি নিজে স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব নেননি, বরং পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করেছে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
১১ থেকে ১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সফরে যান ড. ইউনূস। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মালয়েশিয়া অবস্থানকালে বারনামার এডিটর ইন চিফ আরুল রাজু দুরার রাজ, ইকোনমিক সার্ভিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর কিশু কুমারী সুসিদারাম ও ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিসের এডিটর ভুন মিয়াও পিং যৌথভাবে তাঁর সাক্ষাৎকার নেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে মালয়েশিয়া অনন্য অবস্থানে আছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দেশটি যদি উদ্যোগ নেয়, সমাধান প্রক্রিয়ায় তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়া পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় তাদের প্রভাব খাটাবে, যাতে করে আমরা এই সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে পারি।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ রোহিঙ্গা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু গত ১৮ মাসেই নতুন করে ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা পূর্বের ১২ লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যার প্রথমটি চলতি মাসের শেষে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি নই, জনগণই এই পরিবর্তন চাচ্ছে। আমি শুধু তাদের সেই পথে যেতে সাহায্য করছি, যেদিকে তারা যেতে চায়। আমি কিছু চাপিয়ে দিই না, কেবল দেখি জনগণের ইচ্ছা কী—তারপর সেটিকে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করি।’
২০০৬ সালে ক্ষুদ্রঋণের উদ্ভাবক হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো কোনো দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। তবে পরিস্থিতি তাঁকে বিকল্পহীন করেছে। নিজেকে তিনি নেতা নয়, বরং বহুদিন ধরে অনুপস্থিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ‘অভিভাবক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করেছে, কেউ বা ১৫ বছর। কল্পনা করুন, ১৮ বছরে পৌঁছালেন, ভোট দেবেন বলে মুখিয়ে আছেন—কিন্তু সুযোগই এল না, কারণ আসলে কোনো নির্বাচনই হয়নি। এখন তারা ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো ভোট দেবে।’
ড. ইউনূসের কথায় জাতীয় পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খবরওয়ালা/এন