খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
বিমান বিধ্বস্তে সন্তান হারানোর বেদনা এখনো তাজা। অথচ ঘটনার এক মাসও না পেরোতেই নিহত শিক্ষার্থীদের বাবা-মাকে নিজেদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিতে অনীহা দেখিয়েছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ৮ দফা দাবি নিয়ে প্রধান ফটকে আসেন নিহত শিক্ষার্থীদের একদল অভিভাবক। কিন্তু নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের থামিয়ে দেন। অভিভাবকদের পরিচয় এবং অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্বানুমতির কথা জানালেও প্রহরীদের জবাব ছিল স্পষ্ট—‘ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৫-২০ জন অভিভাবক প্রবেশের জন্য রীতিমতো ধস্তাধস্তি করেন। একপর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হলেও গণমাধ্যমকর্মীদের থামানো হয়। তবে অভিভাবকেরা জোর করেই সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করান।
পরে অভিভাবকদের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে বসানো হলেও কর্তৃপক্ষ নতুন শর্ত দেয়—মাত্র ৩-৪ জন প্রতিনিধি অধ্যক্ষ, উপদেষ্টা ও উপাধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন, গণমাধ্যম সেখানে থাকতে পারবে না। এ শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে অভিভাবকদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম এবং প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরন্ নবী গোপনে ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, ‘আমরা কাউকে প্রবেশে বাধা দিইনি, কারও ভয়ে কেউ বেরিয়েও যাননি। শিক্ষার্থীরা এখনো ট্রমায় আছে। তাই হট্টগোল নিরুৎসাহিত করেছি। আমরা চেয়েছিলাম একটি প্রতিনিধিদল দাবি উপস্থাপন করুক, সবাই নয়।’
অভিভাবকেরা স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে কোচিং ব্যবসার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের জোর করে কোচিংয়ে বাধ্য করা হতো।
নিহত নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়েকে জোর করে কোচিংয়ে ঢোকানো হয়। সে কোচিং করছিল বলেই ক্যাম্পাসে থেকে যায়, আর তখনই দুর্ঘটনায় মারা যায়। খাদিজা ম্যাডাম যদি কোচিং ব্যবসা না চালাতেন, আমার সন্তান আজ বেঁচে থাকতো।’
নিহত তানভীর আহমেদের বাবা অভিযোগ করেন, ‘আমাদের ভয় দেখানো হয় যেন কোচিংয়ের বিষয়টি না বলি। অথচ শিক্ষার্থীদের নানা কৌশলে কোচিং করানো হয়।’
আফিয়ার মামা লিয়ন মীর বলেন, ‘আমরা বিচার চাই, তদন্ত চাই। কিন্তু প্রশাসন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’
প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অধ্যক্ষ ও উপদেষ্টার সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা তদন্ত করা হবে। তবে এত শিক্ষার্থীর মাঝে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই আমরা ক্লাস চলাকালে এমন সভা অনুমোদন দিইনি।’
গত ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী। আহত অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
নিহতদের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত, কোচিং ব্যবসা বন্ধ, জড়িতদের বিচার ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে।
খবরওয়ালা/এসআই