এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ষাটের দশকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী শবনম। প্রকৃত নাম ঝর্ণা বসাক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ১৭ আগস্ট পুরান ঢাকায়।
পিতা ননী বসাক ছিলেন পুরান ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার শিক্ষক এবং ঢাকার মাঠের খ্যাতনামা ফুটবল রেফারি। মাতা ঊষা বসাক। একমাত্র বড় বোন নন্দিতা দাস কলকাতায় বসবাস করেন। শবনমের জীবনসঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার রবীন ঘোষ।
শুরুতে নৃত্যশিল্পী ও অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের পর ১৯৬১ সালে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই ছবিতেই প্রথম ‘শবনম’ নাম ধারণ করেন। নায়িকা হিসেবে প্রথম ছবিতেই তিনি দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।
পরের বছর ১৯৬২ সালে উর্দু ছবি ‘চান্দা’ তাঁকে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তালাশ’ হয়ে ওঠে সে সময়ের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ছবি।
ষাটের দশকেই শবনম পাকিস্তানের জনপ্রিয়তম অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৮ সালে করাচিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। সত্তরের দশকে লাহোরে গিয়ে পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেন পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে। আশির দশকের শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতের শীর্ষ নায়িকা।
তিন দশক জুড়ে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। বলা চলে, তিনি বিশ্বের একমাত্র অভিনেত্রী যিনি ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের ইতি টানেন ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ ছবির মাধ্যমে। কাকতালীয়ভাবে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও শেষ ছবি – দুটোই ছিল সেরা সাফল্যের প্রতীক।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে তালাশ, কখনো আসেনি, দরশন, জোয়ার ভাটা, রাজধানীর বুকে, হারানো দিন, নাচের পুতুল, নবারুণ, নাচঘর, রাজা সন্ন্যাসী প্রভৃতি।
বর্তমানে শবনম অভিনয়জগৎ থেকে অনেক দূরে। অবসরে বই পড়েন, গান শোনেন, নিজের যত্ন নেন এবং একমাত্র সন্তান রনিকে নিয়েই সময় কাটান।
আজ তাঁর জন্মদিনে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
বর্ষীয়ান এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জীবন হোক শান্তিময় ও সুখময়।
খবরওয়ালা/আশ