নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চলছে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা দুরুল হুদা, প্রসেস সার্ভার কুদ্দুস ও পিওন সোহাগ মিলে পুরো অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।
খাজনার অনুমোদন, চেক করে দেওয়া, খারিজ প্রতিবেদন, হোল্ডিং এন্ট্রি—যে কোনো কাজে লাগে ঘুষ। অভিযোগ রয়েছে, দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয় সেবাগ্রহীতাদের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুরুল হুদা একটি দালাল সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন। তার মদদে দুইজন দালাল প্রতিদিন অফিসে বসে থাকে এবং তাদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। খারিজের জন্য আবেদনকারীরা মাসের পর মাস ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না, আবার নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকার বিনিময়ে গোপনে দেওয়া হচ্ছে খতিয়ান।
মোছা: মেঘনা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ছয় মাস ধরে খাজনার অনুমোদনের জন্য ঘুরছেন। কিন্তু এখনো কাজ হয়নি। জালালাবাদের রায়হান রাফু অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের মামলার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে দুরুল হুদা ও তার দালাল ৯৭ হাজার টাকা নিয়েছেন, কিন্তু কাজের অগ্রগতি হয়নি। উত্তরপাড়ার ফাহাদ জানান, মাত্র ৭৭২ টাকার খাজনার জন্য অফিস থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপ-সহকারী কর্মকর্তা দুরুল হুদা বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে আমি কোন কথা বলবো না।”
রাণীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান জানান, “বিষয়গুলো আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে মিরাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড