খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চাইলে তাঁর দেশে রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে পারেন। তবে এর বিনিময়ে ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়া যাবে না।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এটাই হবে শান্তিচুক্তির একটি অংশ।’ হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত রবিবার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন, অথবা চাইলে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখুন, কীভাবে সবকিছু শুরু হয়েছিল। ওবামার আমলে ক্রিমিয়া চলে গিয়েছিল (১২ বছর আগে, একটিও গুলি ছোড়া হয়নি!), আর ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান, সেটা একেবারেই হবে না। কিছু বিষয় কখনোই বদলায় না!’
২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয় রাশিয়া। এরপর থেকেই অঞ্চলটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতির দাবি থেকে সরে এসে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আহ্বান জানান। ওই বৈঠকের দুই দিন পরই জেলেনস্কির সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন তিনি।
রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের আগে তিনি আবারও মিত্রদের কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আহ্বান জানান।
আজ সোমবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনে উত্তপ্ত বাগ্বিতণ্ডার পর এটিই তাঁদের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। তবে এবার জেলেনস্কির সঙ্গে থাকছেন ইউরোপীয় মিত্ররাও।
ওয়াশিংটনের আলোচনায় অংশ নেবেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন সরাসরি হোয়াইট হাউসে যাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প কিছু শর্ত মানতে জেলেনস্কিকে চাপ দিতে পারেন বলে ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিবিএসকে বলেন, ‘জেলেনস্কিকে ট্রাম্প শান্তিচুক্তি মানতে বাধ্য করবেন—এমন ধারণাটি পুরোপুরি মিডিয়ার গালগল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সফরকালে তীব্র তর্ক-বিতর্কের জেরে আলোচনা ভন্ডুল হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ন্যাটো নেতারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেন একটি খনিজসম্পদ চুক্তি করে। একই বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প-জেলেনস্কির টেলিফোন আলাপকে জেলেনস্কি বর্ণনা করেছিলেন, ‘এটাই আমাদের মধ্যে হওয়া সেরা আলাপ।’
খবরওয়ালা/শরিফ