খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এবার প্রায় ৩৫ লাখ আসন শূন্য রয়ে গেছে। অথচ ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ, দৌড়ঝাঁপ এবং কলেজগুলোর শিক্ষার্থী সংগ্রহের প্রচেষ্টা—সবই চলমান। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এত বিপুল আসন শূন্য থাকার দায় কার?
তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯,১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির জন্য রয়েছে ২২ লাখ আসন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে প্রায় ৯ লাখ এবং সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে আরও ২ লাখ ৪১ হাজার আসন। সব মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ লাখ ২৫ হাজার।
কিন্তু ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৩ লাখ ৮ হাজার ৪০৯ জন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভর্তি আবেদন করেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৬ জন। অভিজ্ঞতা বলছে, পরবর্তী ধাপে নতুন আবেদন খুব একটা বাড়বে না। এতে প্রায় সাড়ে ২২ লাখ আসন শূন্য থেকে যাবে।
গত বছরও একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ আসন খালি ছিল, যা এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে বিদ্যমান। ফলে দুই শ্রেণি মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ফাঁকা আসনের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৫ লক্ষাধিক।
এই প্রবণতা নতুন নয়। ২০১৬ সালে ফাঁকা ছিল ৭ লাখ আসন। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭ লাখে। বছর বছর বাড়ছে আসন সংখ্যা, বাড়ছে নতুন কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান, অথচ শিক্ষার্থী বাড়ছে না।
শিক্ষাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত অনুমোদন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক কলেজের শিক্ষক মর্যাদা হারাচ্ছেন শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টায়। অন্যদিকে মানহীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী না থাকলেও সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দিতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের। ফলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে না এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই শিক্ষা নীতি ও প্রতিষ্ঠান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে এই অপচয় আরও বাড়বে এবং শিক্ষার মান আরও নেমে যাবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড