খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভিসাধারী ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বিদেশির রেকর্ড পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এদের কেউ অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা ভিসা বাতিল বা দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার কারণ হতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সব ভিসাধারীই ‘নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই’ প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। যদি কোনো বিদেশির কর্মকাণ্ড ভিসা পাওয়ার অযোগ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা বাতিল করা হবে এবং ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তাঁকে দেশ ছাড়তে হবে।
দপ্তরের মতে, ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে—মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি, সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা। এসব খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং ভিসা ইস্যুর পর প্রকাশিত যেকোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে বৈধ-অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। সরকার শুরুতে বলেছিল, কেবল বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ্য করা হবে। কিন্তু এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আটক হচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় চার লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার পথে রয়েছে প্রশাসন।
কর্মরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালানো হয়েছে—রেস্তোরাঁ, নির্মাণ প্রকল্প, খামার এমনকি আদালত প্রাঙ্গণেও হানা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অনেকে বৈধকরণের জন্য সিভিল অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজির হয়েছিলেন। পাশাপাশি সরকার মানবিক প্যারোল ও টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) সুবিধাও সীমিত করছে, যা বিভিন্ন দেশের কয়েক লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের সুযোগ দিয়েছিল।
শিক্ষার্থী ভিসাধারীরাও নজরদারিতে আছেন। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এ বছর ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের দাবি, এসব শিক্ষার্থী হয় আইন ভেঙেছে নয়তো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেছে। তবে বহু নথিভুক্ত ঘটনায় দেখা গেছে, কেবল ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা মতামতমূলক লেখা লেখার কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে—যা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক মত প্রকাশের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু শিক্ষার্থীর কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাই ছিল না, তবুও তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক ট্রাক চালকদের জন্য সব ধরনের কর্মী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, বিদেশি ট্রাক চালকেরা ‘আমেরিকানদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং দেশি চালকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
খবরওয়ালা/এন