গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 7শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় আটক কলেজছাত্র সিজু মিয়ার মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলমসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরের পর নিহত সিজুর মা রিক্তা বেগম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ওসি ছাড়াও ছয়জন এএসআই, পাঁচজন কনস্টেবল ও তিনজন স্থানীয় যুবকসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন এবং ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৪ জুলাই বিকেলে সিজুকে সাঘাটা থানায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং মৃতপ্রায় অবস্থায় থানার পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন পুলিশ ওই পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে।
মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন—ওসি বাদশা আলম, এএসআই রাকিবুল ইসলাম, মশিউর, মহসিন আলী সরকার, আহসান হাবিব, উজ্জল, লিটন মিয়া (ডিউটি অফিসার), কনস্টেবল হামিদুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম, নয়ন চন্দ্র, জয় চন্দ্র ও ধর্মচন্দ্র বর্মণ। এছাড়া স্থানীয় তিন যুবক সাব্বির হোসেন, ইউসুফ আলী ও মমিনুল ইসলামও আসামি।
প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সিজু থানায় ঢুকে এক এএসআইকে ছুরিকাঘাত করে পালানোর সময় পুকুরে ঝাঁপ দেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে এবং স্থানীয়দের বিক্ষোভের জেরে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
নিহত সিজু মিয়া (২৫) গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের বাগুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও গিদারি ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। ইতোমধ্যে রংপুর রেঞ্জের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
খবরওয়ালা/এন