খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সুদের টাকার জন্য রিকশাচালকের বসতঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তোফায়েল আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি। এতে আট দিন ধরে খোলা বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে রাত যাপন করছে রিকশাচালকের পরিবার। গতকাল শুক্রবার উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামে গিয়ে এই দৃশ্য দেখেছেন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী। রিকশাচালকের বসতঘরের দরজায় ঝুলছিল তালা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একরাম হোসেন চরবগুলা গ্রামে সরকারি প্রকল্পের একটি ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাস করে আসছেন। নিজের প্রয়োজনে তিনি একই এলাকার ছালামত উল্লাহর ছেলে তোফায়েল আহম্মেদের কাছ থেকে মাসিক সুদে টাকা নিয়েছিলেন। একরাম সুদের টাকা দিতে না পারায় তোফায়েল একরামের ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। একরাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৫ সালে আমার রিকশার সঙ্গে রাস্তায় দুর্ঘটনায় দুজন লোক আহত হন।
তাঁদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমি তোফায়েলের কাছ থেকে লাভের ওপর ৬০ হাজার টাকা নিই। ২০১৯ সালে আরো ১১ হাজার নিই। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমি মোট এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা পরিশোধ করি। এই টাকা দিতে গিয়ে আমাকে কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে আর সুদের টাকা টানতে পারছিলাম না। কয়েক দিন আগে তোফায়েল ঘরের সব মালপত্র বের করে তালা মেরে দেন। আমার স্ত্রী তখন বাইরে ছিল। স্ত্রী ফিরে এলে তোফায়েলের কাছে চাবির জন্য গেলে তিনি চাবি দেননি।
আট দিন ঘরে তালা দেওয়ায় ঘরের বারান্দায় অন্যের কাছ থেকে ধার নেওয়া মশারি ও বিছানা নিয়ে কোনোরকমে রাত যাপন করছে পরিবারের সদস্যরা।’ এ ব্যাপারে তোফায়েল আহম্মেদ বলেছেন, ‘একরাম টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ঘরে তালা দিয়েছি। টাকা পরিশোধ করলে তালা খুলে দেব।’
খবরওয়ালা /এমএজেড