খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
বিয়ের খুশির মুহূর্তে গুলি ছুড়ে আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলে নববিবাহিত বর আলি কারাকার (২৩) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী গিরেসুন প্রদেশের শেবিনকারাহিসার শহরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কারাকা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, কনের পরিবারের ৪৭ বছর বয়সী এক নারী আত্মীয় উল্লাসের অংশ হিসেবে গুলি চালালে বর সেই গুলিতে বিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তার ব্যাগ থেকে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। প্রসিকিউটর অফিস এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
তুরস্কে গুলিবর্ষণ করে বিয়ে উদযাপনের ঘটনা নতুন নয় এবং অনেক সময় তা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়। গত সপ্তাহেও ত্রাবজোন প্রদেশে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলিতে একজন নিহত ও দুজন আহত হন। ২০১৮ সালে কনিয়া শহরে এক চিকিৎসক নিজের কোমরের বন্দুক থেকে হঠাৎ গুলি বেরিয়ে প্রাণ হারান।
তুরস্কে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে গুলি ছোড়া আইনত নিষিদ্ধ হলেও এটি এখনো চলছে। সরকারি সতর্কতা ও প্রচারণা সত্ত্বেও বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় ও গ্রামীণ প্রদেশগুলোতে এই বিপজ্জনক অভ্যাস প্রচলিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ‘শক্তি ও আনন্দ প্রদর্শন’ করতে গিয়ে অনেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন, যার ভয়াবহ মূল্য দিতে হয় নিরীহ মানুষকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করে, কঠোর নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়া এ প্রাণঘাতী রেওয়াজ বন্ধ করা সম্ভব নয়।
নববিবাহিত বরের মৃত্যুতে তার পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। আনন্দের মুহূর্ত মুহূর্তে কান্নার সাগরে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনা দেশজুড়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে—‘বিয়ের উল্লাসের গুলি কবে থামবে?’
খবরওয়ালা/টিএসএন