খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
পারিবারিক কলহের জেরে পাবনার চাটমোহরে শাপলা খাতুন (৩০) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাশুড়ি ও সৎছেলেকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বউ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাপলা খাতুন ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মনজিল হোসেনের স্ত্রী। তিনি নয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন- নিহতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন (৬৫) ও সৎ ছেলে শিপন হোসেন (২০)।
মুলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে কুযাবাসী গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শাপলাকে বিয়ে করেন মনজিল। তাঁর আগে আরও তিনটি স্ত্রী ছিল। শাপলা ছিল চতুর্থ স্ত্রী৷ মনজিল সর্বশেষ ১০ মাস আগে বাড়ি এসেছিলেন। তবে মনজিল সৌদিপ্রবাসী হলেও স্ত্রী শাপলাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতেন না। বিয়ের পর তাঁকে মেনে নিতে পারেননি প্রথম স্ত্রীর ছেলে শিপন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। তিন মাস আগে শাপলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন সৎছেলে শিপন ও তাঁর দাদি মনোয়ারা খাতুন।

কয়েক দিন আগে স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে শাপলাকে তাঁর স্বামীর বাড়িতে তুলে দেন। তখনই তাঁকে মেনে নেবে না ও মেরে ফেলার হুমকি দেন সৎছেলে শিপন। এরই একপর্যায়ে আজ সকালে তাঁর মরদেহ বাড়িতে দেখতে পান এলাকাবাসী। এ সময় সৎছেলে শিপন ও তাঁর দাদি মনোয়ারা খাতুন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত শাপলার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার চালান তাঁরা।
একপর্যায়ে সৎছেলে ও তাঁর দাদি পালানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার ও তাঁদের দুজনকে আটক করে।
নিহত গৃহবধূর বড় মা নাজমা খাতুন বলেন, ‘মেয়েটা ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কয়েক দিন আগে ডাক্তার দেখাইছে, আলট্রাসনোগ্রাম করেছে। ডাক্তার বলছে, আর ৮-১০ দিন পর ডেলিভারি হবে। কিন্তু তার আগেই মেয়েটাকে ওরা এভাবে শেষ করে দিল। আমরা ওদের কঠিন বিচার চাই।’
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক দুজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলা করার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামীকাল শনিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।