খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সেখানে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক রবিউল ইসলাম (৩৯) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উদ্ধারকৃত গাঁজার ৫০ গ্রাম ও আটক ব্যক্তিদের একজনকে পুলিশে দিয়ে বাকিটা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছেন এবং টাকার বিনিময়ে একজনকে ছেড়ে দিয়েছেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার রাজাপুর-জোনাইল আঞ্চলিক সড়কের গোপালপুর কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হলে সবার নজরে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন একটি বড় ব্যাগ থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো কয়েক প্যাকেট গাঁজা বের করে দেখে আবার ওই ব্যাগেই রেখে দিচ্ছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন ঘটনা জানতে রাজাপুর বাজারে গেলে কয়েক ব্যক্তি তাঁদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গাঁজা সরানো এবং আটক একজনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতরা হলেন গোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম খান ও বিএনপি কর্মী সুজন আলী। তাঁরা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম রনির অনুসারী।
রাজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ হোসেন বলেন, ‘আমি কারখানায় কাজ করার সময় প্রতিবেশী নাইম হোসেন ফোন দিয়ে জানায় এক ব্যাগ গাঁজাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি একটি কালো রঙের ব্যাগের ভেতরে ছয় প্যাকেট গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করছে কয়েকজন। আমি সেখান থেকে তাদের নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অফিসে দিয়ে বাড়ি চলে যাই। পরে কী হয়েছে তা জানি না।’
আব্দুর গফুর নামের অপর একজন বলেন, ‘আমরা দেখেছি দুজনকে আটক করা হয়েছিল।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে এক ব্যক্তি জানান রাজাপুর এলাকায় পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এসআই রাকিবুল ইসলাম পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান কোনো গাঁজা উদ্ধার বা কাউকে আটক করা হয়নি। আমি বিষয়টি নিয়ে চাপাচাপি করলে একজনকে আমাদের হাতে তুলে দেয়। গাঁজা ছাড়া আসামি নিতে না চাইলে একটি ব্যাগের ভেতরে কালো পলিথিনে মুড়িয়ে গাঁজা দেয়। যার পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম হতে পারে। পরে উপস্থিত জনগণের সামনে ওই গাঁজা এবং আটক একজনকে থানায় নিয়ে আসি।’
বিএনপি কর্মী সুজন হোসেন বলেন, ‘তাঁরা আমাদের অফিসে এসেছিলেন। আমি সেখান থেকে বের করে দিয়েছিলাম। লোকজন মারধর করে মেরে ফেলতে পারে—এমন শঙ্কায় বসিয়ে রেখেছিলাম। পুলিশ আসার পর তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।’ এর বাইরে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ সেখানে গেলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।