খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ফেনীর আল-কেমী হাসপাতালে সিজারের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাত মাস ধরে তীব্র ব্যথা ও দুর্ভোগ পোহানোর পর অবশেষে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে গজটি অপসারণ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আল-কেমী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, তদন্ত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী রোগী ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তার পরিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ও আল-কেমী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. তাসলিমা আক্তার আল-কেমী হাসপাতালে ফরিদার সিজার করেন। ওই সময়ই পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ফরিদা ক্রমাগত পেটে ব্যথায় ভুগছিলেন। বারবার চিকিৎসককে জানালেও তাকে শুধু ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে তিনি ফেনী জেড ইউ মডেল হাসপাতালের সার্জন ডা. কামরুজ্জামানের কাছে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে কোনো বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে শহরের আল-বারাকা হাসপাতালে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তার পেট থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের এক ফুট লম্বা গজ বের করা হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন