খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের গ্রামীণ আঙিনা, ঝোপঝাড় কিংবা মাঠঘাটে একসময় যেসব গাছপালা সাধারণ দৃশ্য ছিল, তাদের অনেকগুলোই আজ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো স্বর্ণলতা। নামের মতোই এই লতা সত্যিকার অর্থে অমূল্য ভেষজ গুণে ভরপুর। তবে আধুনিক জীবনযাত্রা, কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার, বনজ সম্পদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এই গাছটির অস্তিত্ব আজ সংকটে।
স্থানীয়ভাবে কেউ একে স্বর্ণলতা, কেউ আবার “কুসুমলতা” নামে চেনে। এটি এক ধরনের আরোহী উদ্ভিদ, সাধারণত অন্য গাছের সঙ্গে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে। পাতাগুলো সবুজ ও কোমল, আর কাণ্ড সরু ও নরম। দেখতে তেমন আকর্ষণীয় না হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসাধারণ ওষুধি গুণ।
স্বর্ণলতা আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় বহুদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্রামের প্রবীণরা এর পাতার রস কিংবা লতার নির্যাস নানা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করতেন।
জ্বর ও সর্দি-কাশিতে কার্যকরী: পাতার রস খেলে দেহের জ্বর প্রশমিত হয়। চর্মরোগ নিরাময়: ত্বকের বিভিন্ন ফুসকুড়ি, ঘা কিংবা চুলকানিতে এর পাতা বেটে ব্যবহার করা হয়। পাচনতন্ত্রের সমস্যা: হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস্ট্রিকজনিত অস্বস্তি কমায়। বাত ও গেঁটে ব্যথা: গ্রামীণ চিকিৎসায় এর লতা সিদ্ধ করে পান করলে জয়েন্টের ব্যথা উপশম হয় বলে বিশ্বাস।
স্বর্ণলতা মূলত ঝোপঝাড়, অনাবাদি জমি ও গ্রামীণ বাড়ির প্রাচীরের পাশে জন্মাতো। কিন্তু এখন শহর-গ্রামে জায়গা কমে আসছে, মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে। কীটনাশক, জমি ভরাট ও অযত্নের কারণে এই উদ্ভিদ দিন দিন বিলুপ্তপ্রায় হয়ে পড়ছে। অনেক তরুণই আজ স্বর্ণলতার নামই শোনেনি, চিনতেও পারে না।
যে গাছ আমাদের অমূল্য ভেষজ ভাণ্ডার, তাকে অবহেলায় হারাতে দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঞ্চিত করা। স্থানীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে ভেষজ গাছের পরিচর্যা, এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যচর্চায় এদের ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
স্বর্ণলতা কেবল একটি সাধারণ লতা নয়; এটি প্রকৃতির দান, গ্রামীণ জ্ঞানের ভাণ্ডার। অথচ অজান্তে আমরা এ গাছটিকে হারিয়ে ফেলছি। এখনই উদ্যোগ না নিলে একদিন হয়তো গল্পে-গাথায়ই শুধু জানা যাবে, কখনো বাংলার মাটিতে এমন এক লতা জন্মাতো, যার নাম ছিল, স্বর্ণলতা।
খবরওয়ালা/এমএজেড