খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনমজুর থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মালিক—সবাইকে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আবদুল জলিল নামে একজন দিনমজুর তার টিনের ঘরের ভাড়া বাবদ পাওয়া ৯ হাজার টাকা আয়ের ওপর নির্ভর করে চলতেন। কিন্তু এক বছর ধরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার কাছে মাসিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি সেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, এবং জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িত। তাদের অদ্ভুত পোশাক ও চুলের স্টাইল দেখে সহজেই চেনা যায়। সামান্য বিষয় নিয়ে তারা দেশি অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, নারীদের উত্ত্যক্ত করা, গণছিনতাই ও খুনের মতো ঘটনাও ঘটায়।
স্থানীয়রা জানান, চাঁদাবাজির একটি বড় কারণ হলো গ্যাং সদস্যদের জামিনের খরচ মেটানো। তারা প্রায়ই ভুক্তভোগীদের কাছে বলে যে তাদের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া সদস্যদের জন্য টাকা প্রয়োজন। মোহাম্মদপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, তিন বছর আগে প্লট কেনার সময় তাকে একটি গ্যাংকে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল এবং এখন নতুন একটি গ্রুপ আবারও একই পরিমাণ টাকা দাবি করছে।
র্যাব-২-এর কমান্ডিং অফিসার খালিদুল হক হাওলাদার জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোহাম্মদপুর ও আদাবর থেকে ৮৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তিনি অন্তত ২০টি গ্রুপের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ‘কবজি কাটা আনোয়ার’ ও ‘টুন্ডা বাবু’র গ্রুপ সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি আরও জানান, অনেক সদস্য একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে।
আদালত সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অভাবে অনেক সময় তারা জামিন পেয়ে যায়। এছাড়া ভুক্তভোগীরাও সব সময় সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী হন না। তবে আদাবর থানার ওসি এস এম জাকারিয়া জানান, তারা যথাযথ প্রমাণ নিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করেন।
ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মূলত ভাসমান হওয়ায় তাদের খুঁজে বের করা কঠিন। তবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সম্প্রতি আদাবর এলাকায় পুলিশের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এই ঘটনার পর পুলিশ ১০২ জনকে আটক করে এবং অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
খবরওয়ালা/টিএসএন