খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের গত জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭০ দিনে ৩৫১ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
রামেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বছরই সর্বশেষ ১৪ বছরের মধ্যে সর্বাধিক সাপে কাটা রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। তাই তারা সতর্ক থাকার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ৩৫১ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ১৩ জনকে কেটেছিল রাসেলস ভাইপার, ৮১ জনকে বিষধর সাপ ও ২৭০ জনকে নির্বিষ সাপ। বাকি ৬৮ জনকে অন্যান্য বিষধর সাপে কেটেছিল।’
সবশেষ গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরীর রাজপাড়া থানা এলাকার বাশার (২২) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহত বাশারের চাচাতো ভাই আকাশ বলেন, ‘রাতে পদ্মার ধারে ঘুরতে গিয়েছিলেন বাশার। সেখানেই তাকে সাপে কামড় দেয়। রাতেই তাকে হাসপাতালের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির দেড় ঘণ্টার মাথায় তার মৃত্যু হয়।’
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইমন নামের এক তরুণ সাপে কামড় খায়। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইমনের মামা মো. তুহিন বলেন, ‘তাদের বাড়ি নদীর পাশে। রাতে ইমন পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় তাকে সাপ কামড় দেয়। ওই রাতে ইমনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবু মন না মানায় ইমনের ফুফা তাকে ওঝার কাছেও নিয়ে যান। পরের দিন তার স্বজনরা ইমনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। ইমনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার অবস্থার উন্নতি হলে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেয় চিকিৎসক।’
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর (২০২৪ সাল) ৫৭ জন সাপে কামড়ানো রোগীকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে মৃত্যুর হার ছিল ২৪ শতাংশ। তবে চলতি বছর সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৮৩ জন রোগী ভর্তি হলেও মৃত্যুর হার কিছুটা কমে ১৪ শতাংশ হয়েছে। এ বছর রাসেল ভাইপার সাপে কামড়ানো সাতজন রোগী আইসিইউতে ভর্তি হলেও তাদের ছয়জনেরই মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ঘরে কামড়ানো কমন ক্রেইটস বা কালাচ সাপের বিষক্রিয়ার জন্য ৭৬ জন রোগীর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গত ১৪ বছরে হাসপাতালে এত সাপে কাটা রোগী আসেনি। তবে যেসব রোগীর মৃত্যু হয়েছে তারা অনেক দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছেছিল। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সচেতনতা নিঃসন্দেহে বেড়েছে। তবু একটি সাপে কামড়ানো রোগীও মারা যাবে না, এটা সবার মতো আমারও কামনা।’
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর জন্য বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। প্রতিটি রোগীর জন্য কর্তৃপক্ষ খরচ করেছে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা। কিছু রোগীর জন্য আরও বেশি। সবমিলে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে—আক্রান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ