খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নরেন্দ্র মোদির এআই-নির্মিত একটি ভিডিওকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ‘কংগ্রেস বিহার’ নামের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রয়াত হীরাবান মোদি তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বকাঝকা করছেন। ভিডিও প্রকাশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।
বিজেপির মুখপাত্র সায়েদ শাহনাওয়াজ হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, ‘কংগ্রেস দিন দিন নিচে নামছে। প্রথমে তারা মোদিজির প্রয়াত মাকে গালি দিয়েছে। এখন আবার এআই দিয়ে তাঁর মুখে কথা বসিয়ে ভিডিও বানিয়েছে। বিহার তথা পুরো ভারত এটা মেনে নেবে না। নির্বাচনে এর মূল্য কংগ্রেসকে চুকাতে হবে।’
বিজেপি মুখপাত্র অরবিন্দ কুমার সিংহও বলেন, ‘এই ভিডিওর মাধ্যমে ভারতের মায়েদের অনুভূতিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। আমাদের কাছে মায়েরা দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো পূজনীয়। কংগ্রেসকে এর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।’
অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি—ভিডিওতে কোনো অসম্মান নেই। বরং মায়েদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যই তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য মায়েদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যই তুলে ধরা হয়েছে। একজন মা তার সন্তানকে শেখাচ্ছেন—তা-ই ওই ভিডিওকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, ‘সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। তিনি (প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মোদির মা হীরাবেন মোদি) শুধু তার সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছেন। যদি সন্তান মনে করে এতে তার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে, তবে সেটা তার সমস্যা।’
কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা আরও বলেন, ‘প্রয়াত মায়ের প্রতি কোথায় অসম্মান দেখানো হয়েছে? আমাকে দেখান, একটি শব্দ, একটি অঙ্গভঙ্গি, একটি ইঙ্গিত—কোথাও কি অসম্মান দেখা যাচ্ছে? সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের অধিকার। তিনি শুধু তার সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এখন যদি সন্তান মনে করে এতে তার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে, তবে সেটা তার সমস্যা, আমার বা আপনার নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিজেপি কেন সবকিছুকেই সমস্যা বানানোর চেষ্টা করে এবং মিথ্যা সহমর্মিতা তৈরি করে? এসব বিষয়ে আর কোনো সহমর্মিতা নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদি “টাচ-মি-নট” রাজনীতি করতে পারেন না। তিনি রাজনীতিতে আছেন এবং সবকিছুকে, এমনকি বিরোধীর হালকা রসিকতাকেও সঠিকভাবে নিতে হবে। আর এখানে কোনো রসিকতা নেই, বরং এটা ‘নাসিহাত’ (উপদেশ)।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ৯৯ বছর বয়সে মারা গেছেন নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবান মোদি।
খবরওয়ালা/এন