খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে এক করুণ ঘটনার ৪০ দিন পূর্ণ হলো শনিবার।
গত ১৪ আগস্ট ঋণের দায় ও খাওয়ার অভাবে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছিলেন মিনারুল ইসলাম (৩৫)। তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটে ছিল মৃত্যুর অসহায় স্বীকারোক্তি—‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ সেই ঘটনার শোক এখনো কাটেনি গ্রামবাসীর। কিন্তু স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী ৪০ দিন পূর্ণ হলে করতে হয় ‘চল্লিশা’ বা ‘ফয়তা’ অনুষ্ঠান। সেই সামাজিক প্রথা রক্ষা করতেই এক লাখ টাকা ধার করে ছেলের পরিবারের জন্য চল্লিশার আয়োজন করেছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী।
শনিবার দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে গেলে দেখা যায়, ভ্যানে চড়ে আসছেন দূরের গ্রামের মানুষ, আত্মীয়স্বজনও ভিড় করছেন। রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি বড় প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানে বসে খাচ্ছেন গ্রামের মানুষজন। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল আর মাছের মুড়িঘণ্ট। রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া উঠছে, প্যান্ডেলে গমগম করছে মানুষের পদচারণা।
রুস্তম আলী ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন অতিথিদের খাওয়া-দাওয়া। এক ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এভাবে চল্লিশা করতে হয়। কেউ বলে চল্লিশা, কেউ বলে ফয়তা। সমাজের মানুষকে খাওয়াতে হয়, এটা বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি। আমি গরিব মানুষ, মাংস দিয়ে আয়োজন করার সামর্থ্য ছিল না। মাছ দিয়েই করেছি।’
তিনি জানান, মোট প্রায় এক হাজার ২০০ জনের জন্য এই আয়োজন করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা, যা পুরোপুরিই ধার। কিভাবে শোধ করবেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার ১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বিক্রি করব, তাতেই শোধ করব। অন্য কোনো উপায় নাই।’
গ্রামের মানুষ বলছিল, চারজনের একসঙ্গে মৃত্যুর কারণে বাড়িতে ভারি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পাচ্ছিল। এ কারণে দোয়া ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজনের মাধ্যমে বাড়ির ভার কমবে, ভয় কেটে যাবে—এমনটাই ভেবেছেন রুস্তম আলী।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, ‘ইসলামে এ ধরনের আয়োজনের বিধান নেই। তবে সমাজের প্রথা হিসেবে মানুষ এটা করে আসছে। তাদের বিশ্বাস, এতে কিছুটা হলেও শান্তি মেলে।’
চল্লিশা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা একাধিক গ্রামবাসী জানান, রুস্তম আলীর পরিবারের ওপর নেমে আসা এই দুর্ভাগ্য গোটা গ্রামকে নাড়া দিয়েছে। তাই সবাই উপস্থিত হয়ে দোয়া করেছেন, মৃতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
খবরওয়ালা/এন