খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বিরুদ্ধে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তীব্র হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, গ্রোসি সংস্থাটিকে নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করছেন।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামী বলেন, ‘গ্রোসির ধ্বংসাত্মক ভূমিকা ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, গ্রোসি ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া তথ্য প্রকাশ এবং অযৌক্তিক অভিযোগ ছড়াচ্ছেন, যা কর্মসূচির স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, আইএইএ প্রধান সংস্থার তথ্যের গোপনীয়তা নীতি লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইরানের প্রতি দমনমূলক মনোভাব গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মূল দায়িত্ব হচ্ছে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কোনো দেশ তা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করছে কি না, তা নিরীক্ষা করা।
এছাড়া গ্রোসির অভিযোগগুলোর প্রমাণ হিসেবে ইসরাইলের দেওয়া অবিশ্বস্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসরাইল নিউক্লিয়ার প্রলিফারেশন ট্রিটিতে স্বাক্ষরকারী নয় এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারির বাইরে রয়েছে। সেই তুলনায়, ইরান সব ধরণের তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ করছে। ইরান বলেছে, এই দ্বৈত মানদণ্ড আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ধ্বংস করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই অবস্থার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে কষ্টে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসলামী বলেন, গ্রোসির দীর্ঘসূত্রতা ইসরাইলকে অবৈধ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।
ইরান বলছে, ইসরাইলের সামরিক হামলার আগে গ্রোসির মন্তব্য ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রিপোর্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যারেটিভ ব্যবহার করে আক্রমণের যৌক্তিকতা তৈরি করা হয়েছিল। জুন মাসে ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায়। ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় শতাধিক সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ নিহত হয় এবং পারমাণবিক ও নাগরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মোহাম্মদ এসলামী আরও বলেন, গ্রোসির কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় সৃষ্টি করেছে এবং সংস্থাটিকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিগত তদারকি নিশ্চিত না করা, আন্তর্জাতিক পরমাণু নীতির প্রতি ধ্বংসাত্মক আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।
খবরওয়ালা/এসআর