খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জমিজমা নিয়ে বিরোধ, দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য কারণে নিহত বহু মানুষের নাম উঠেছে জুলাই আন্দোলনের ’শহীদ’ তালিকায়। অথচ সংজ্ঞা অনুযায়ী এঁরা শহীদের তালিকায় পড়েন না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৩৪ জন শহীদের মধ্যে অন্তত ৫২ জন প্রকৃত অর্থে ’শহীদ’ নন।
রাজধানীর ওয়ারীতে গত বছরের ১৪ আগস্ট জমি-সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন বিএনপি নেতা মো. আল-আমিন ভূঁইয়া ও তাঁর ভাই নুরুল আমিন। মামলার নথি ও পুলিশের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হলেও আল-আমিনকে সরকারি প্রজ্ঞাপনে শহীদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিহতের পরিবারও এ স্বীকৃতির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদপুরে রিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান জামাল উদ্দিন (৩৫)। খুলনার পাইকগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান শিক্ষার্থী রকিবুল হাসান (২৪)। পুলিশের নথি এসব মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবুও তাঁদের নাম শহীদ তালিকায় রয়েছে।
অটোরিকশাচালক মহিউদ্দিন মোল্লা (৪৫) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বরিশালের চালক সাইফুল ইসলামের মৃত্যু নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। পরিবারের দাবি, আন্দোলনে গুলিতে নিহত হয়েছেন, কিন্তু পুলিশের রিপোর্টে উল্লেখ আছে—‘কাট ইনজুরি’।
আইন অনুযায়ী ৫ আগস্টের পর নিহতদের শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সরকারি প্রজ্ঞাপনে এমন পাঁচজনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে আছেন জমি-সংক্রান্ত বিরোধে নিহত আল-আমিন ভূঁইয়া, যাত্রাবাড়ীতে মারামারিতে নিহত দুই তরুণ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হওয়া ব্যবসায়ী আবু সাইদ।
৫ আগস্টের সহিংসতায় বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা যান নাটোর, লালমনিরহাট, বরগুনা ও যশোরের অন্তত ৬০ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও স্থাপনায় আগুন দেওয়ার সময় নিহতদেরও শহীদ তালিকায় রাখা হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, সংজ্ঞা অনুযায়ী এসব মৃত্যু শহীদের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জনের নাম প্রজ্ঞাপনভুক্ত হলেও আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে সব তথ্য আবার যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত শহীদ নন, এমন নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
৪১টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই সরকারি ক্ষতিপূরণের আশায় স্বজনের নাম ’শহীদ’ তালিকায় তুলেছেন।
লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনকে শহীদ তালিকায় রাখা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের সহযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে এক তরুণ ঘটনার নয় মাস পর মামলা করেন, যেখানে ৭৩ জনকে আসামি করা হয়। এতে ভুয়া শহীদ দেখিয়ে শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, মামলার হয়রানির অভিযোগও উঠছে।
সূত্র: প্রথম আলো
খবরওয়ালা/এমএজেড