খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনায় একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে। শহীদ রফিক-জব্বার হল, জাহানারা ইমাম হল ও মওলানা ভাসানী হলের বিভিন্ন পদে ফল ঘোষণার পর এ ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
শহীদ রফিক-জব্বার হলে ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে প্রাথমিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় আশরাফুল ইসলামকে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হল প্রভোস্ট তাঁকে ফোনে জানিয়ে দেন, ‘তুমি জয়ী হওনি, গণনায় ভুল হয়েছে, আমরা দুঃখিত।’
ফলাফলে দেখা যায়, চার প্রার্থী মিলে ভোট পান ৫০৯টি, অথচ হলে মোট ভোট পড়েছে ৪৬৯টি। আশরাফুল ইসলাম শুরুতে ১৩২ ভোটে এগিয়ে থাকলেও পরে জানানো হয় তিনি আসলে পেয়েছেন ৯২ ভোট। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় আমি জয়ী হয়েছিলাম। পরে প্রভোস্ট মোবাইল ফোনে জানান, গণনায় ভুল হয়েছে। এত সময় নিয়েও ফলাফলে ভুল হওয়া দুঃখজনক।’
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, ‘এখানে গণনায় ভুল হয়েছে। আমরা অনুতপ্ত। মূলত দুই টালিতে ভোট গণনা হয়েছে। সেখানে চার সংখ্যাকে ইংরেজির আট ভেবে গণনা করা হয়েছে।’
জাহানারা ইমাম হলে দেখা যায়, মোট ভোট পড়েছে ২৪২টি, অথচ ফলাফলে দেখানো হয় ২৪৭টি। এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বী লামিয়া জান্নাত ও সাদিয়া জান্নাত সমান ১১৩ ভোট পান। কিন্তু হাতে গণনার সময় লামিয়ার একটি ভোট বাতিল করা হয় ‘টিক চিহ্ন’ কিছুটা বক্সের বাইরে চলে যাওয়ায়।
লামিয়া জান্নাত অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু টিক চিহ্ন একটু বক্সের বাইরে যাওয়ায় আমার ভোটটা বাতিল করা হয়। অথচ অন্য হলে এটি হয়নি। হাতে গণনা হওয়ায় এ ভোট বাতিল করার কথা না। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।’
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার নাসরিন খাতুন জানান, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের বলা হয়েছিল নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গেলে ভোট বাতিল করতে হবে। তাই ওই ভোটটি বাতিল করা হয়েছে।’
মওলানা ভাসানী হলে ভোট নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী নীহ্লা অং মারমা কার্যকরী সদস্য পদে শূন্য ভোট পান। কিন্তু ভোটার রেলং খুমি ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার কাছের ছোট ভাই নীহ্লা অং মারমা জিততে পারেনি। ভাসানী হল থেকে সে একটা ভোটও পায়নি। কিন্তু আমি তাকে ভোট দিয়েছি।’
তিনি পরে জানান, ‘ভাসানী হলে আমাদের আদিবাসী কমিউনিটির ভোট রয়েছে। বন্ধুবান্ধবরাও রয়েছে। তারপরও শূন্য ভোট পাওয়া প্রশ্নের জন্ম দেয়।’
সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভোট গণনায় ভুল দেখবে দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসার। আমরা যে ফলের শিট পেয়েছি, তাই ঘোষণা করেছি। যদি কারও প্রশ্ন থাকে, লিখিতভাবে জাকসুর সভাপতিকে (উপাচার্য) জানাতে হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ