খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গোপালগঞ্জে মো. রেজাউল করিম শেখ (৪২) নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে মুকসুদপুর উপজেলার আদমপুর নতুন বাজারের তার চেম্বার ‘আল করিম ফার্মেসি’ সিলগালা করে দেওয়া হয়।
সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এই দণ্ডাদেশ দেন।
এ সময় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, গোপালগঞ্জের ড্রাগ সুপার বিথী রানী মণ্ডল, পুলিশ ও আনসার-ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রেজাউল করিম শেখ মুকসুদপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে। তিনি ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডাক্তার’ এবং নামের পরে ‘ডি.এম.এ ঢাকা’ ডিগ্রি উল্লেখ করতেন। তিনি কোমর, বাত, হাঁটু ব্যথা, চর্ম, এলার্জি, ডায়াবেটিস, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করতেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অপারেশন ও দাঁত তোলায় বিশেষ পারদর্শী বলেও সেখানে লিখে রেখেছিলেন।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, মো. রেজাউল করিম শেখের কোনো ধরনের চিকিৎসা সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই। তিনি বেআইনিভাবে ‘ডাক্তার’ শব্দটি ব্যবহার করে রোগী দেখতেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিতেন। তিনি রোগী ভর্তি রেখে অস্ত্রোপচারও করতেন। অস্বাস্থ্যকর টিনশেডের চেম্বারে তিনি রোগীদের রাখতেন। একই সাথে তার ফার্মেসিতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি করতেন এবং প্রচুর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ছিল। সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে রেজাউল করিম শেখকে গোপালগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদমপুর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা তাইজুল হোসেন বলেন, প্রায় ৯ বছর আগে রেজাউল করিম আদমপুর নতুন বাজার মসজিদ এলাকায় ‘আল করিম ফার্মেসি’ শুরু করেন। এরপর তিনি সেখানে চেম্বার খুলে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগী দেখা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া শুরু করেন। এছাড়া চেম্বারে রোগী ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করতেন। তিনি ব্যবস্থাপত্রে অনেক দামি এবং একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক লিখতেন এবং লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি করতেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন