খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত পোদ্দার বাড়িটি ঐতিহ্য, স্থাপত্যশৈলী এবং শিল্প-নৈপুণ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যদি সময়মতো এর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়, তবে ইতিহাসের গৌরব ধারণকারী এই প্রাসাদোপম স্থাপনাটি দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
ইট, ঢালাই লোহার ব্র্যাকেট, কাস্ট আয়রনের ভেন্টিলেটর ও গ্রিল, সিরামিক টাইলস, মোজাইক মেঝে এবং নিখুঁত নকশার মাধ্যমে পোদ্দার বাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় নান্দনিকতা এবং ঔপনিবেশিক যুগের ছাপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর খিলান, কার্নিশ এবং ছাদের কারুকাজ বাড়িটিকে আরও শৈল্পিক মর্যাদা দিয়েছে।
এই দ্বিতল ভবনটিতে রয়েছে ১১০টিরও বেশি কক্ষ, যেখানে ছিল মন্দির, গোসলখানা, নাচঘর, প্রসবকক্ষ, বৈঠকখানা, কোষাধ্যক্ষদের কক্ষ, চিত্রশালা, দরবার কক্ষ, গোপন পথ এবং পান্থশালা। বাড়ির ভেতরে নারীদের জন্য তিন দিক থেকে ঘেরা পুকুরঘাট, খাল ও কূপ থেকে জল সরবরাহের ব্যবস্থা, একটি বিশাল ফুলের বাগান এবং খেলার মাঠ এটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদে পরিণত করেছে।
স্থাপত্যশৈলীতে মুঘল, গ্রিক, গান্ধারা এবং ঔপনিবেশিক যুগের ছাপের পাশাপাশি প্রতিটি ইটে স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পোদ্দার বাড়ির ঐতিহ্য প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। রামমোহন পোদ্দার, শশী পোদ্দার, আনন্দ পোদ্দার এবং গোপী পোদ্দার ছিলেন এই বংশের বিখ্যাত ব্যক্তি। তাদের নামেই গড়ে ওঠা আনন্দবাজার আজও স্থানীয়দের কাছে পরিচিত।
৩৭২ বিঘা জমির এই বিশাল সম্পত্তি বর্তমানে আউয়াল নামের একজন আইনজীবীর দখলে রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে তার বাবা আনোয়ার হোসেন পোদ্দারদের কাছ থেকে বাড়িটি কিনেছেন।
ঐতিহাসিক পানাম নগরের কাছে অবস্থিত এই বাড়িটি সোনারগাঁ পৌরসভার পূর্ব ও উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। তবে দুঃখের বিষয়, শত বছরের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি আজ অবহেলা আর অযত্নে ধ্বংসের পথে। এর দেয়াল, কার্নিশ এবং শৈল্পিক কারুকাজগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সংরক্ষণ করা না হলে এই অমূল্য ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, ‘ইতিহাসে সমৃদ্ধ এবং দৃষ্টিনন্দন এই বাড়িটি যদি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যায়, তবে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. সিয়াম চৌধুরী জানান, যেহেতু ভবনটি এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আসেনি, তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন