খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নীলফামারীর ডোমারে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মামা শ্বশুরের কামড়ে ডান হাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ। বুধবার রাতে আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে মামা শ্বশুর হরিণছড়া শালমারা এলাকার নুরল হকের ছেলে মো. নুর হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ডোমার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমার উপজেলার হরিণছড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত ওলিয়ার রহমানের ছেলে শরীফুল ইসলাম (২৮) ও পূর্ব হরিণছড়া গ্রামের ওসমান গনির মেয়ে মোছা. জান্নাতুনের (২২) বিয়ে হয় পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাশুড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন জান্নাতুন।
জান্নাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ি আমাকে ছাড় দেন না। কয়েকদিন যাবত তিনি আমাকে নিয়ে এলাকায় মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার শাশুড়ি মামা শ্বশুরসহ আত্মীয়দের ডেকে আনেন। স্বামী বাইরে থাকায় তারা আমাকে আক্রমণ করে বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় এবং মামা শ্বশুর আমার ডান হাতে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ভাই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
জান্নাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে এর আগেও মামা কয়েকবার মারধর করেছে। লজ্জার কারণে কাউকে বলিনি। মায়ের বিরুদ্ধে সব অভিযোগই সত্য। এর আগেও গ্রাম্য সালিশ হয়েছে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
জান্নাতুনের ভাই সুজন ইসলাম জানান, বোনের ফোন পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই। গিয়ে দেখি সে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। আমাকে দেখে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং থানায় অভিযোগ করি। সাংসারিক সমস্যার কারণে বোন ও দুলাভাই দীর্ঘদিন ভাড়া বাসায় থেকেও শান্তি পাননি।
অন্যদিকে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জান্নাতুনের শাশুড়ি মোছা ফুলবানু (৪৫) বলেন, ‘আমার বউ আমার ওপর হাত তুলেছিলো, এজন্য হাতাহাতি হয়েছে। তবে কোনো পুরুষ তাকে মারেনি।’ স্বজনেরাও দাবি করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া চলছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামা শ্বশুর নুর হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হরিণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল রানা জানান, বউ-শাশুড়ির মধ্যে মারামারি হয়েছে। দুই পক্ষই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সুস্থ হলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এর আগেও পরিবারের সমস্যা নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কাওছার আলী বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খবরওয়ালা/শরিফ