আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অবিরাম গোলাবর্ষণ এবং বোমা হামলায় ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে গাজা উপত্যকা। ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় একদিনে অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় একদিনে ৯১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা এবং উত্তর গাজা শহর থেকে পালিয়ে আসা একটি ট্রাকের চারজন যাত্রীও ছিলেন।
শনিবার ভোরে দখলদার বাহিনী গাজা শহরের বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফার পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়ার পারিবারিক বাড়িতে আক্রমণ চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে আবু সালমিয়ার ভাই, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তানরা ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে আবু সালমিয়া বলেন, ‘আমার ভাই এবং তার স্ত্রীর মরদেহ দেখে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ করছিলাম। এখন যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব, কারণ আপনার প্রিয়জনরা হয়তো শহীদ বা আহত হয়ে আসছেন।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে গাজা নগরীর অন্তত ২০টি উঁচু ভবন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই ভবনগুলো হামাস ব্যবহার করত।
শরণার্থীদের ভিড়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকার দুর্দশাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা এমএসএফ হতাশার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে পানি, খাবার বা তাঁবু টানানোর কোনো জায়গা নেই। উত্তর থেকে আসা বাস্তুচ্যুতদের হাতে কিছুই নেই। এমএসএফ জানায়, এতবারের বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর গাজার মানুষদের অবস্থা এখন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা ছেড়ে পালাতে একটি পরিবারের গড়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে ট্যাক্সি ভাড়া, তাঁবু এবং জমির দাম আকাশচুম্বী। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, ইসরায়েল আশ্রয় সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, ফলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
হামাস অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েল আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ব্যবহার করছে। এটিকে তারা যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করছে। একই সাথে, হামাসের কাসেম ব্রিগেড ‘ফেয়ারওয়েল পিকচার’ বা বিদায়ী ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে জীবিত এবং মৃত ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দীর ছবি একত্রিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে গণহত্যা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে উল্টো হামাসের ৭ অক্টোবরের আক্রমণকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন