আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দ্বিরাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধানের প্রক্রিয়াকে পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই দেশগুলো এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
গতকাল, রবিবার, এই তিন দেশ একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই স্বীকৃতি হামাসের জন্য কোনো পুরস্কার নয়।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সেই দেড় শতাধিক দেশের সঙ্গে যুক্ত হলাম যারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমি জানি, এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত এবং বিভাজন তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে ঘৃণা ও ভয় ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করেছে। আমাদের কেবল ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করলেই চলবে না, বরং সব ধরনের ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে।’
গতকাল কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমানে ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে পদ্ধতিগতভাবে বাধা দিচ্ছে। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত আক্রমণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। দশ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। ইসরায়েল গাজায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান ইসরায়েল সরকারের সুস্পষ্ট নীতি হলো কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কানাডা সরকার এটি করেছে।’
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ইসরায়েল সরকার, জিম্মিদের পরিবার এবং কিছু রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত’ করে।
একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ জন রিপাবলিকান আইন প্রণেতা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নিউইয়র্কের এলিস স্টেফ্যানিক এবং টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও রয়েছেন। খবরওয়ালা/টিএসএন