খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানে যৌথ বাহিনী ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা প্রদান করা হয়। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জিমখানা লেকপার্ক এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত এই পাঁচজন হলেন—সদর উপজেলার নতুন জিমখানা এলাকার মোখলেছ মিয়ার পুত্র মো. ফয়সাল (২১), জল্লারপাড় এলাকার মোহাম্মদ লিটনের পুত্র রিফাত (২০), দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার প্রয়াত মোশারফ ভূঁইয়ার পুত্র জুবায়ের ভূঁইয়া রানা (৩৬), জল্লারপাড় এলাকার প্রয়াত আব্দুল মজিদের পুত্র মো. মোস্তফা হোসেন (২৬) এবং ডালপট্টি এলাকার প্রয়াত চিত্তরঞ্জন নন্দীর পুত্র অভিনন্দী (৩০)। তাদের বিভিন্ন সময়কালের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গ্রেপ্তার বাকি ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জনকে সদর মডেল থানায় শনাক্তকরণের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। অপর তিনজনের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন— আলম চাঁন, পারভীন আক্তার ও আফরিনা ওরফে হাসি।
পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার জিমখানা এলাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে জিমখানা এলাকার মাদক কারবারি আলম চাঁনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলম চাঁনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় দেড় কেজি গাঁজা, ২৫০ মিলি বিদেশি মদ, তিনটি বড় ছোরা, একটি চাপাতি, একটি টেঁটা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। এছাড়া, আলম চাঁনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদকের ১০টি মামলা বিদ্যমান রয়েছে। পারভীন আক্তারের কাছ থেকে ২৪ পিস ইয়াবা এবং হাসির কাছ থেকে ৩৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টি এম রাহসিন কবির ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গাঁজা রাখা ও সেবনের অপরাধে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দেন। এর মধ্যে মো. ফয়সাল ও রিফাতকে ১২ দিন, জুবায়ের ভূঁইয়া রানাকে ২০ দিন, মো. মোস্তফা হোসেনকে ১৪ দিন এবং অভিনন্দীকে সাত দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জিমখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, তিনজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা হবে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অন্য পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা প্রদান করা হয়েছে। আলম চাঁনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাকেসহ আরও দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন