খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলা সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদাতা শিল্পযোদ্ধা সমর দাস (১৯২৯ – ২০০১) একাধারে সুরকার, গিটারবাদক, সঙ্গীত পরিচালক ও সংগঠক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
১৯২৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের নবদ্বীপ বসাক লেনের এক সাঙ্গীতিক পরিবারে জন্ম নেন সমর দাস। পরিবারের পরিমণ্ডলেই তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার সূচনা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ১৯৪৫ সালে, অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্রে বাঁশি বাজিয়ে তাঁর সঙ্গীত জীবনের যাত্রা শুরু হয়। তরুণ বয়সেই গিটার ও পিয়ানো বাজানোর দক্ষতায় তিনি খ্যাতি পান এবং একজন খ্যাতিমান গিটারবাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
১৯৫০-এর দশকে কলকাতার হিজ মাস্টার্স ভয়েস (HMV) কোম্পানিতে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর সুরকার জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সমর দাসের ভূমিকা ছিল অনন্য। মুজিবনগর থেকে পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ও প্রধান সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। তাঁর সুরে সৃষ্ট গান—
‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’
‘নোঙ্গর তোলো তোলো’
স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে, জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” সামরিক ব্রাশব্যান্ডে সুরবিন্যাস করে বিবিসি লন্ডন থেকে রেকর্ড করানোর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
সমর দাস বাংলা চলচ্চিত্রেও তাঁর সুরের ছাপ রেখেছেন। ১৯৫০ সালে কলকাতার বাংলা ছবি ‘লটারি’ ‘মুখ ও মুখোশ’ ‘জিঘাংসা’ প্রভৃতি ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি।
তাঁর সুর করা গান ও সঙ্গীত পরিচালনা সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি, যা রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমানভাবে সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সঙ্গীত ভাণ্ডারকে।
এছাড়া ১৯৮৫ ও ১৯৯৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমস-এর সূচনা সঙ্গীতও তাঁর সুরে রচিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন—স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক- এছাড়া আরও অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
বাংলাদেশ সঙ্গীত পরিষদ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই প্রখ্যাত সুরস্রষ্টা পরলোকগমন করেন। তাঁর সমাধি রয়েছে রাজধানীর ওয়ারীর খ্রিষ্টান গোরস্থানে।
বাংলা সঙ্গীত ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সমর দাসের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এই মহান শিল্পযোদ্ধাকে।
খবরওয়ালা/এমএজেড