খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
এক বছরে দুটি একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে অস্বস্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছেন লেখক-প্রকাশকরা। তাদের মতে, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই মেলা ফেব্রুয়ারি মাসে না হয়ে অন্য সময়ে আয়োজন করা মানানসই নয়। এতে লেখক, প্রকাশক ও পাঠক—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রতিবছরই বইমেলায় যান শফিক হাসান। তিনি বলেন এক বছরে দুটি একুশে বইমেলা ঠিক মানানসই মনে হলো না। সবচেয়ে বড় কথা, এই বইমেলার সঙ্গে আমাদের ভাষা আন্দোলনের অনুষঙ্গ জড়িত। ২০০৮ সাল থেকেই বইমেলায় যাচ্ছি। যেতে যেতে মাইকে একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ শুনতাম। এটাকে মনে হতো বইমেলার অনিবার্য অংশ। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম। তাদের ত্যাগ কতটা বিশাল, ভাষার গৌরব কতটা মহান, এমন ভাবনাও আমাদের চেতনায় কাজ করতো।
নিয়ম মেনে ফেব্রুয়ারি মাসেই বইমেলার আয়োজন করা যেত। রমজান মাস শুরু হতো ১৮ তারিখ থেকে। তার মানে অর্ধেকের বেশি সময় বইমেলা চলতো। এর পরে যারা বইমেলায় আসার, চাইলে কেউ কেউ আসতে পারতেন। বইমেলার মাঠেও বড় পরিসরে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজের আয়োজন রাখা যেত। যারা নামাজ পড়ার পড়তেন। রাখা যেত সাশ্রয়ী মূল্যে ইফতারের আয়োজনও। তা না করে কী হলো?
জনাব হাসান বলেন, নির্বাচনের জন্যও বইমেলা আগানো হলো। কিন্তু শেষপর্যন্ত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন যদি না হয়! বইমেলা যেহেতু লেখক-পাঠক-প্রকাশকের; তাদেরও প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে। কোনো কোনো লেখক ডিসেম্বরের পরে পাণ্ডুলিপি গোছান। ফাইনাল হলে তুলে দেন প্রকাশকের হাতে। প্রকাশক আনুষঙ্গিক কাজ করে বই প্রকাশের ব্যবস্থা করতেন। সেই বই বইমেলার স্টল হয়ে পৌঁছে যেত পাঠকের হাতে। এবার ‘একের ভেতর দুই’ তথা ‘চটজলদি বইমেলা’য় এই চেইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। প্রকাশকরা যেমন সব বই আনতে পারবেন না, আবার লেখকেরাও সময়মতো লেখা শেষ করতে পারবেন না। বঞ্চিত হবেন পাঠক। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন লেখক-প্রকাশক উভয়ে। দর্শনার্থীরাও মন থেকে সাড়া পাবেন বলে মনে হয় না।
খবরওয়ালা/এমএজেড