খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তবে সেখানে কোনো রোহিঙ্গা প্রতিনিধি থাকছেন না, যা নিয়ে শরণার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, “আমাদের ছাড়া আমাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে। এটা তো নায়ক ছাড়া নাটক হয়ে গেল!”
সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানান, “এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়। আমরা কেবল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করি।”
সম্মেলনের তিন দিন আগে কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয় শিবিরে ‘আওয়ার ফিউচার, আওয়ার ভয়েস—মেসেজ অ্যাহ্যাড অফ দ্যা ইউএন কনফারেন্স অন রোহিঙ্গা’ শিরোনামে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে আয়োজনকালে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে হাজারো রোহিঙ্গা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা অভিযোগ করেন, আট বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গারা মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা টেকসই নয়।
রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, “আমরা আর কেবল প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। আমাদের প্রকৃত চাওয়া হল, নিরাপত্তার মধ্যে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ এবং মিয়ানমারে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ।”
তরুণ অধিকারকর্মী কিন মং বলেন, “আমাদের প্রজন্ম শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে সংকট আরও ভয়াবহ হবে। সম্মেলন থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত জরুরি।”
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান যোগ করেন, “সম্মেলন যেন বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করে। শুধু কথা নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণাও আবশ্যক। না হলে মানবিক বিপর্যয় দীর্ঘায়িত হবে।”
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “রাখাইনে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে কোনো যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন বিশ্বব্যাপী দৃঢ় সংকল্প তৈরি করবে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে, যেখানে তহবিল সংগ্রহ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
এর আগে সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ২৪-২৬ আগস্ট কক্সবাজারে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক অংশীজন সংলাপ’ আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হাই রিপ্রেজেনটেটিভের দপ্তর যৌথভাবে।
খবরওয়ালা/এন