খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (সিপিএন–ইউএমএল) চেয়ারম্যান কে পি শর্মা অলি ঘোষণা দিয়েছেন, নেপালকে বর্তমান সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে তিনি পালাবেন না। চলতি মাসের শুরুর দিকে জেন-জিদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় ইউএমএলের যুব শাখার এক সমাবেশে অলির ভাষণ ছিল বিজেপির শরণার্থীর মতো প্রতিক্রিয়ার থেকে ভিন্ন—স্বচ্ছ প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তে ভরা। তিনি বলেন, ‘আপনারা কি ভাবছেন দেশকে আমরা এই ভিত্তিহীন সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে পালাব? কোনো দিন না।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অলি আরও বলেন, ‘আমরাই এ দেশ গড়ে তুলব। আমরা দেশকে আবার সাংবিধানিক ধারায় ফিরিয়ে আনব, শান্তি ও সুশাসন ফিরিয়ে আনব।’
এটি ছিল অলির প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছাড়ার ১৮ দিন পর। ৯ দিন নেপালের সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা সুরক্ষায় থাকার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি গুন্ডুতে ভাড়াবাসায় গিয়ে ওঠেন। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীরা ভক্তপুরের বালকোটে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন পুড়িয়ে দেন।
অলি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির নেতৃত্বাধীন সরকারকে জনসমর্থনহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নয়; বরং লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন যে, কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না এবং আন্দোলনের সময় যে নির্দেশনা তিনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়েছেন—তার রেকর্ডিং প্রকাশ করতে তিনি সুশীলা কারকির সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
অলি অভিযোগ করেন, তাঁর নতুন বাসভবনের অবস্থান জেনেও বর্তমান সরকার তাঁকে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান করেনি। তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে বলা হচ্ছে অলির নতুন বাড়ি খুঁজে বের করে আক্রমণ করো। সরকার কী করছে? শুধু বসে বসে দেখছে।’
উল্লেখ্য, অলি-সরকার ও তাতে বিরোধী জনস্রোতের সংঘাত নেপালের রাজনৈতিক মঞ্চকে তীব্র অস্থিরতায় ফেলে দিয়েছেন; এখন সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও সুশাসনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামার মতো নয়।
খবরওয়ালা/শরিফ