খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
“শোনো গো দখিনা হাওয়া”—
এই সুরের মাধুর্য শুনলেই ভেসে ওঠে এক অনন্য নাম,
শচীন দেব বর্মন, যিনি শুধু একজন সুরকার নন, ছিলেন সুরের সাম্রাজ্যের সম্রাট।
জন্ম ১ অক্টোবর ১৯০৬ সালে কুমিল্লায়। পিতা নবদ্বীপ চন্দ্র দেব বর্মন (দেব বাহাদুর) ছিলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজপরিবারের সন্তান। সেই রাজবংশের উত্তরাধিকারী হয়েও শচীন দেব বর্মনের পরিচয় গড়ে ওঠে অন্যরকম এক রাজ্যে— সুরের রাজ্যে। আর তাই সবাই তাঁকে ভালোবেসে ডাকতেন ‘শচীন কর্তা’।
শৈশবেই গ্রামবাংলার লোকগান তাঁকে গভীরভাবে টেনে নেয়। কুমিল্লার মাটি ও মানুষের সুর তাঁর প্রাণে ঢেলে দিয়েছিল সহজ সরল অথচ হৃদয়গ্রাহী সুরের ধারা। সেই ধারাই তাঁকে পৌঁছে দেয় ত্রিপুরা থেকে কলকাতা, আর কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ের রঙিন সঙ্গীতভুবনে। সেখানেই তিনি হয়ে ওঠেন একচ্ছত্র আধিপতি।
শচীন কর্তার চারপাশে সমবেত হতেন সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তিরা—
মহম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমারসহ অসংখ্য শিল্পী।
তাঁর ঠোঁট থেকে যদি বের হতো—
“এই গানডা কইলাম তোমারে দিয়াই গাওয়ামু”—
তবে তা হয়ে উঠত চিরস্মরণীয়, অমর সৃষ্টি।
তিনি ছিলেন সুরের এমন এক জাদুকর, যিনি বাংলা ও হিন্দি গানের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন নিজের স্বকীয়তা ও সহজাত প্রতিভায়। কুমিল্লার মাটিতে জন্মানো সেই ছোট্ট চারাগাছ সময়ের পরিক্রমায় রূপ নিয়েছে এক মহীরুহে—যার ছায়ায় আজও স্নিগ্ধতা খুঁজে পান কোটি সঙ্গীতপ্রেমী।
৩১ অক্টোবর ১৯৭৫ সালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন প্রতিটি সুরে, প্রতিটি গানে, প্রতিটি হৃদয়ে।
আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি তাঁকে
যিনি আমাদের শিখিয়েছেন,
সুরই পারে মানুষকে অমর করে তুলতে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শচীন দেব বর্মন।