খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচল করা মার্কিন জাহাজে ফের হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ঘোষণায় তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরনের জাহাজও তাদের হামলার আওতাভুক্ত হবে।
হুথিরা অভিযোগ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে করা শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপ জারি রেখেছে। এর আগে চার মাসের যুদ্ধবিরতি শেষে মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে গোষ্ঠীটি।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন করে ১৩ মার্কিন কোম্পানি, ৯ ব্যক্তি ও দুটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এসব কোম্পানিকে এখন থেকে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এই ঘোষণাকে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য পূর্ব সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকায় কনোকোফিলিপস ও ডায়মন্ড এস শিপিংয়ের নামও উল্লেখ রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। তখন থেকে শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজও লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে হুথিদের টার্গেটে পরিণত হয়। গোষ্ঠীটি বলছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির অংশ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা সাত সপ্তাহের অভিযানে হাজারের বেশি বোমা বর্ষণের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় চলতি বছরের মে মাসে ওয়াশিংটন হুথিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে। তবে পাঁচ মাস পর সেপ্টেম্বরে সেই চুক্তি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়, নতুন নিষেধাজ্ঞায় হুথিদের সঙ্গে জড়িত ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং চারটি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অভিযোগ—তারা অর্থ সংগ্রহ, চোরাচালান ও হামলায় সম্পৃক্ত। এছাড়া কিছু চীনা কোম্পানিকেও এতে যুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে হুথিদের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ওই নিষেধাজ্ঞার জবাবেই মঙ্গলবার হুথিরা পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং মার্কিন জাহাজে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়।
খবরওয়ালা/এন