খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে নানা প্রজাতির শতাধিক পাখি। বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে কাপাসিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে টিনশেড মার্কেটটির পাঁচটি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে দোকান ও জিনিসপত্রসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দোকানিরা দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে কাপাসিয়া বাজারের পুরাতন মাছ বাজারের পাশে গৌতম হার্ডওয়্যার স্টোরে হঠাৎ করে আগুন দেখা যায়। এর একটু আগেই ওই দোকানের কর্মচারী দোকানটি খুলে পাশের দোকানে গিয়েছিলেন। দোকানে প্রচুর পরিমাণ রং ও কেমিক্যাল থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই তা পাশের দোকানগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে।
হার্ডওয়্যারের দোকানটির পাশেই লিটন বণিকের জেএনজি ইলেক্ট্রনিক্স এবং শীতল মণ্ডলের পাখির দোকান। একেবারে লাগোয়া হওয়াতে মুহূর্তেই আগুনে দোকান দুইটি ভস্মীভূত হয়। অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় পাখিগুলো।
অগ্নিকাণ্ডের খবরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া দোকানে ধসে পড়া টিন ও অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে পাখির খাঁচাগুলো। আগুনের তাপে বেঁকে গেছে সেগুলো। এতগুলো পাখির এমন করুণ মৃত্যুতে হাহাকার করছেন শীতল মণ্ডল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, চোখের সামনে পাখিগুলো পুড়ে মরল। এ নির্মম দৃশ্যের কষ্ট কাউকে বুঝানো সম্ভব নয়। শীতল মণ্ডল জানান, পাশের দোকানির ফোনে দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে যান। তার দোকানে বিক্রির জন্য লাভ বার্ড, ককাটিয়েল, বাজিগর কবুতর, কোয়েলসহ নানা প্রজাতির শতাধিক পাখি ছিল। এ ছাড়া পাখির খাবার ও খাঁচাও বিক্রি করতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁর দোকানটি বন্ধ ছিল। ফলে পাখিগুলো বের করা যায়নি। আগুন নিভলে এগুলোর অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শীতল মণ্ডল জানান, তাঁর চার বছর বয়সী একমাত্র কন্যা শ্রুতি মণ্ডল মাঝেমধ্যেই পাখিদের দেখতে দোকানে চলে আসত। অনেক সময় শ্রুতি তার মা সোমা রানীকেও নিয়ে আসত। বলতে গেলে পাখিগুলোর সঙ্গে পরিবারের সবারই এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছিল।
খবর পেয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
খবরওয়ালা/এমইউ