খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
১৫২ রানের লক্ষ্য, যা ১১ ওভারের শেষে বিনা উইকেটে ১০৯ রানে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ, মনে হচ্ছিল সহজে বড় জয় আসবে। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ৯ রানের মধ্যে ৬টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে টাইগাররা বড় বিপদে পড়ে।
অবশেষে অবশ্য বিপর্যয় এড়ানো গেছে। সহজ ম্যাচকে কঠিন করে হলেও জাকের আলীর দল আফগানিস্তানকে ৪ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখে পরাজিত করেছে। শারজায় অনুষ্ঠিত এই সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দারুণ সূচনা করে। তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করেন।
এই উদ্বোধনী জুটি ১১ ওভারের আগেই শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। ৩৫ বলে ইমন এবং এক বল কম খেলে তামিম অর্ধশতক করেন। ১২তম ওভারে ইমনের লেগ বিফোর উইকেটে আউট হওয়ার মাধ্যমে তাদের ১০৯ রানের জুটিটি ভাঙে। ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৪ রান করে ফিরে যান ইমন।
পরবর্তী দুই ওভারেই রশিদ খানের জাদুতে ম্যাচে ফিরে আসে আফগানিস্তান। এই লেগ স্পিনার এক ওভারে দুইটি করে মোট ৪টি উইকেট তুলে নেন। ফলস্বরূপ, বিনা উইকেটে ১০৯ রান থেকে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৮ রানে নেমে আসে। অর্থাৎ, মাত্র ৯ রান যোগ করতে তারা ৬টি উইকেট হারায়।
এশিয়া কাপে নজর কাড়া সাইফ হাসান রানের খাতা খোলার আগেই লেগ বিফোর উইকেটে আউট হন। তিন বল পরেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তামিম। এই বাঁহাতি ওপেনার ৩৭ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস খেলেন।
নিজের পরের ওভারে রশিদের শিকার হন আরও ২ জন—জাকের আলী (৬) এবং শামীম পাটোয়ারী (০), দুজনেই লেগ বিফোর উইকেটে আউট হন। এর পরের ওভারে তানজিম হাসান সাকিব (০) নুর আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন। যদিও বল ব্যাটে লেগেছিল, আম্পায়ার আউট দেন এবং বাংলাদেশের কাছে রিভিউ করার সুযোগ ছিল না।
১১৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতি থেকে রিশাদ হোসেন এবং নুরুল হাসান সোহান দলকে জয় এনে দেন। রিশাদ ৯ বলে ১৪ এবং সোহান ১৩ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ২৩ রান করেন।
রশিদ খান মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪টি উইকেট লাভ করেন।
এর আগে আফগানিস্তানের ১৬ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১০০ রান। শেষ ৪ ওভারে তারা আরও ৫১ রান যোগ করে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানরা ৯ উইকেটে ১৫১ রান সংগ্রহ করে।
শারজায় টস জিতে আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। পাওয়ার প্লে-তে আফগানরা মাত্র ৩৩ রান তুলতে পারে এবং হারায় ৩টি উইকেট।
আত্মবিশ্বাসী শুরু করা আফগানিস্তানের ইনিংসে চতুর্থ ওভারে প্রথম আঘাত হানেন নাসুম আহমেদ। ইব্রাহিম জাদরান ১০ বলে ১৫ রান করে বোল্ড হন।
তানজিম হাসান সাকিবের শিকার হন সেদিকুল্লাহ অতল। তার শর্ট ডেলিভারিতে ব্যাট চালালে বল আকাশে উঠে যায় এবং পারভেজ হোসেন ইমন ক্যাচ নেন। অতল ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের করা পরের ওভারে, রহমানুল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দারউইশ রসুলি (২ বলে ০) নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে একই দিকে চলে আসেন। মুস্তাফিজ নিজে বল ধরে স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক জাকের আলীর হাতে দেন এবং স্টাম্প ভেঙে রানআউট নিশ্চিত হয়।
সপ্তম ওভারে রিশাদ হোসেনকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে শামীম পাটোয়ারীর হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ ইসাক (৪ বলে ১)। ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান।
এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ মিলে একটি জুটি গড়েন। ২৭ বলে ৩৩ রানের এই জুটিটি ভাঙেন রিশাদ। বলের সমান ১৮ রান করা ওমরজাই লং-অন বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন।
গুরবাজ এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। ছক্কা খাওয়ার এক বল পরেই তানজিম সাকিব স্লোয়ার দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করেন। ৩১ বলে ৪০ রান করে ফেরেন গুরবাজ। ১০০ রানের (৯৫) আগেই আফগানিস্তান ৬টি উইকেট হারায়।
সেখান থেকে মোহাম্মদ নবি দলকে লড়াই করার মতো একটি পুঁজির দিকে নিয়ে যান। তাসকিন আহমেদকে ১৮তম ওভারে তিনি তিনটি ছক্কা মেরে আউট হন। ২৫ বলে নবির ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। মুস্তাফিজ রশিদ খানকে ৪ রানে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান। শেষ দিকে শরফুউদ্দিন আশরাফ ১২ বলে ১৭ রানের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন।
তানজিম হাসান সাকিব ও রিশাদ হোসেন দুজনেই ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন