খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিনব মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করেছিলেন স্ত্রী। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে শ্বশুর বাড়িতে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আসেন ঠাণ্ডু বেপারী। সন্ধ্যা-রাতের দিকে স্ত্রী কৌশলে তাকে দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। তিনি ঘুমে নিমগ্ন হলে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা ও লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, স্ত্রী লাবনী আক্তারসহ স্বজনরা পাশের ঘরের মেঝ খুঁড়ে কবর তৈরি করেন। হত্যার পর লাশ পুতে রাখার জন্য সিমেন্ট ও বালুও রাখা হয়েছিল। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাচেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। রাত দেড়টার দিকে স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৮), শাশুড়ি শহিদা বেগম ও দাদি জনকী বেগম মিলিত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঠাণ্ডু ঘুমিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শোয়ার ঘর থেকে পাশের কক্ষে নেওয়ার সময় তার ঘুম ভেঙে যায়। এরপর হাত-পা বেঁধে গলা কাটার চেষ্টা করলে ঠাণ্ডু চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ছুটে আসায়, হত্যাকাণ্ড ব্যর্থ হয়।
ভুক্তভোগী ঠাণ্ডু বেপারী (৩৫) সদরপুরের ভাষানচর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মিয়াচান বেপারীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি স্ত্রীর পরিবারকে ১১ লাখ টাকা হাওলাত দিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
ঠাণ্ডুর চাচা মো. রমযান আলী জানান, শ্বশুর বাড়ির পাশে জমি ক্রয়ের জন্য টাকা হাওলাত দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা এনেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শ্বশুর বাড়ির এলাকায় জমি কিনে বসত স্থাপন করা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। রাত দেড়টার দিকে স্ত্রী লাবনী আক্তার, শাশুড়ি শহিদা বেগম ও দাদি জনকী বেগম কাস্তে দিয়ে হত্যা চেষ্টা করেন। পাশের ঘরের বারান্দায় কবর প্রস্তুত করা হয়েছিল। মুখে দড়ি বাঁধার কারণে গলা পুরোপুরি কাটা সম্ভব হয়নি এবং ঠাণ্ডু চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করেন। রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সদরপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সদরপুর থানার ওসি সুকদেব রায় জানান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন