খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 20শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিংয়ে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রধান সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হিমালয়ের রাজ্য সিকিম যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দার্জিলিংয়ের গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ), টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রাতে ভারী বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ের মিরিক ও সুখিয়া পোখরি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া দার্জিলিংয়ে যাতায়াতের প্রধান সড়কে ধস নামায় কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারী বৃষ্টিতে মিরিক ও দুধিয়ায় লোহার সেতু ভেঙে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে তিস্তা বাজারে সড়ক তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ লামাহি বলেন, ‘রাতেই আমাদের এলাকায় এমন প্রবল বৃষ্টি হলো, আগে কখনো এমন ভাঙন দেখিনি। আমরা আতঙ্কিত।’
হিমাদ্রি রায় নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পানি আর ধসে আমাদের গ্রাম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এ ছাড়া রোহিণী রোডের একাংশ ধসে নদীতে পড়ে যাওয়ায় দুর্গাপূজার ছুটিতে ওই এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য স্থানীয় পুলিশ একটি হটলাইন (৯১৪৭৮৮৯০০৭৮) চালু করেছে।
এলাকাগুলোতে পুলিশ ও প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতালেও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
মিরিকের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্শিয়াং জানান, মিরিকে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে কাজ চলছে, তবে আবহাওয়ার কারণে তা কঠিন হচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রবল বর্ষণে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
প্রবল বৃষ্টিপাতে উত্তরবঙ্গের আরও কিছু অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আবহাওয়া দপ্তর আরও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
খবরওয়ালা/এসআর