খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
নিজের তৃতীয় সন্তানের মুখ দেখার আগেই আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মী নুরুল হুদা। মৃত্যুর ১১ দিন পর আজ জন্ম নিল তাঁর পুত্রসন্তান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নুরুল হুদার স্ত্রী আসমা খাতুন পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিক গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যান নুরুল হুদা। পরদিন সকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের ধামাইল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
নুরুল হুদা টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার ফাইটার পদে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ তিনি চাকরিতে যোগ দেন। মৃত্যুর সময় মা, বাবা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, ১০ বছরের এক মেয়ে ও ৩ বছরের এক ছেলে রেখে যান তিনি।
স্বজনেরা জানান, গত রোববার দুপুরে আসমা খাতুনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মী পরিবারটির পাশে ছিলেন।
নুরুল হুদার বাবা আবুল মুনসুর বলেন, ‘আমি ছেলে হারাইলাম, আমার ছেলের সন্তান জন্ম নিল এতিম হয়ে। সে তার সন্তানকে দেখে যেতে পারল না। আল্লাহই সব পরিকল্পনাকারী, তিনিই আমার নাতিকে দেখে রাখবেন।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আসমা খাতুন নামের প্রসূতি আজ সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মা ও নবজাতক দুজনই ভালো আছেন। দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকসহ আমরা তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছি।’
খবরওয়ালা/এন