খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
সুইডেনের স্টকহোমে যখন নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা হচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার পাহাড়ে হাইকিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রেড র্যামসডেল। মোবাইল ফোন এয়ারপ্লেন মোডে থাকায় তিনি জানতেও পারেননি যে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল।
সোমবার বিকেলে হাইকিংয়ের বিরতিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন র্যামসডেল। হঠাৎই তার স্ত্রী লরা ও’নিল চিৎকার শুরু করেন। প্রথমে র্যামসডেল ভেবেছিলেন, হয়তো তার স্ত্রী কোনো ভালুক দেখেছেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই লরা চিৎকার করে বলেন, ‘তুমি নোবেল জিতেছো!’
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে র্যামসডেল বলেন, ‘আমার স্ত্রী ফোন হাতে নিয়ে দেখেন, প্রায় ২০০টি খুদেবার্তা এসেছে—সবই নোবেল জয়ের অভিনন্দন বার্তা। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরে দেখি, আগের রাতেই স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে নোবেল কমিটি থেকে কল করা হয়েছিল।’
চিকিৎসা বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর ফ্রেড র্যামসডেলসহ আরও দুই বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তারা ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন এক ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন, যা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে। এই আবিষ্কারকে অটোইমিউন রোগ নিরাময়ের পথে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
র্যামসডেলের সঙ্গে চিকিৎসায় নোবেলজয়ী অপর দুই বিজ্ঞানী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেরি ব্রাঙ্কো এবং জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি।
ফ্রেড র্যামসডেল বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকসের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খবরওয়ালা/এন