খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম হংকংয়ের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সংবাদকর্মীদের নির্ধারিত স্থানটিও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক পুরো সংবাদ মাধ্যম।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কেন এবং কী কারণে সাংবাদিকদের আসন বিক্রি করলো, তা কারোরই বোধগম্য হয়নি। এই ইস্যু নিয়ে গতকাল ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত কিছু দর্শক সংবাদকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে ম্যাচ কাভার করতে আসা সাংবাদিকরা বাংলাদেশ-হংকং ম্যাচটি বয়কট করার হুমকি দেন।
ঢাকা স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকে সাংবাদিকদের বসার জায়গাটি অবস্থিত। চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসে সংবাদকর্মীরা খেলার খবর সংগ্রহ করেন। আর অতিরিক্ত সাংবাদিকদের জন্য চতুর্থ তলার ছাদে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যারা সরাসরি ম্যাচ কভার না করে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেদন বা ‘সাইড স্টোরি’ করবেন, তারা ছাদে যাবেন এবং সেখানে বসে খেলা দেখবেন। টিভির ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন হলে সেখানেই বসানো হবে—এমন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেস বক্সের ছাদে অতিরিক্ত আসন (ওভার ফ্লো) তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাফুফে সেই ছাদের অংশটি বিক্রি করে দিয়েছে।
সংবাদকর্মীরা গতকাল অভিযোগ করেন যে এর আগেও ভুটান এবং সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচের সময়ও একই জায়গা বিক্রি করা হয়েছিল। তবে তখন সাংবাদিকরা কোনো প্রতিবাদ করেননি। গতকাল ঘটনাটি ঘটে। সাংবাদিকরা ওভার ফ্লো অংশে প্রবেশ করতে গেলে বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। একজন-দুজন করে বাধা পেতে থাকার পর বিষয়টি প্রেস বক্সে থাকা অন্যান্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই সবাই চাপা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কারা বাধা দিচ্ছে এবং কেন বাধা দিচ্ছে—জানতে চাইলে টেকনো নামক একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়দানকারী একজন ব্যক্তি ওভার ফ্লো থেকে নিচে নেমে এসে প্রথমে প্রতিবাদ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, তার সাথে থাকা লোকজনেরাও মারমুখী হয়ে ওঠেন। টেকনো প্রতিষ্ঠানের ঐ ব্যক্তি দাবি করেন যে তারা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আসনগুলো কিনেছেন। সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করেন, আসন কিনলেও কেন সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই কথাগুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকে। এর মধ্যে খবর পেয়ে প্রেস বক্সের সকল সাংবাদিক একযোগে নিচে জড়ো হন। টেকনোর কর্মকর্তার কথা শোনার পর সাংবাদিকরা ফিরে আসেন। সাংবাদিকদের বসার জায়গা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে অভিজাত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত। তারা একদিনের দর্শক এবং সারাবছর দেশের ফুটবলে আগ্রহ দেখান বলে মনে হলো না। তবে এই মানুষগুলো উদ্ভুত পরিস্থিতি দেখে বেশ বিব্রত হয়েছিলেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন