খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন বণ্টন নিয়ে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোগী দলগুলো ইতিমধ্যে ২১৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ ১৩৮, ১২ দলীয় জোট ২১, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ৯, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১৩, জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৫, গণফোরাম ১৫, লেবার পার্টি ৬ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ১০টি আসনে প্রার্থী প্রস্তাব করেছে। কিছু দল সরাসরি লন্ডনে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তালিকা হস্তান্তর করেছে। আসন বণ্টন নিয়ে এখনো চলছে তদবির ও আলোচনার পর্ব। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি এবার মিত্রদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে পারে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের ৫৮ আসনে ছাড় দিয়েছিল, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ২২টি আসন। তবে এবার জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট বা সমঝোতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বিএনপির বিভিন্ন টিম এখন মিত্র দলের জনপ্রিয়তা যাচাই করছে। এর মধ্যে আগের নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া অন্য শরিকদের দেওয়া অনেক আসন এবারও ছাড় দেওয়া হতে পারে। কিছু নেতাকে মৌখিকভাবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের সংসদের উচ্চকক্ষে মূল্যায়নের চিন্তা করছে বিএনপি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, আসন বণ্টনে তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমরা রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে সঙ্গে নিতে চাই। অতীতে যারা আমাদের সঙ্গে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিতে চাই না।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আসন বণ্টনের বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষ। আমরা এমন আসনেই প্রার্থী দেব যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বাস্তব।”
সূত্র জানায়, চলতি মাসের মধ্যেই বিএনপি কোন কোন আসন ছাড় দেবে তা স্পষ্ট হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটির আসনগুলো মিত্রদের দেওয়ার সম্ভাবনা কম, যা নিয়ে মতভেদের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
তারেক রহমান পাঁচটি জরিপ ও নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবুজ সংকেত পেতে পারেন—পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ এ বাংলাদেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বগুড়া-২ এ নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এ গণসংহতির জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-৬ এ সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-১৩ এ এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৭ এ বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, চট্টগ্রাম-১৪ এ এলডিপি নেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ এ রেদোয়ান আহমেদ ও নড়াইল-২ এ এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
গণতন্ত্র মঞ্চ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ১৩৮ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), সাইফুল হক (ঢাকা-৮), জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), তানিয়া রব (লক্ষ্মীপুর-৪), শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ফেনী-৩) প্রমুখ।
১২ দলীয় জোট ২১টি আসনের তালিকা দিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছেন মোস্তফা জামাল হায়দার (পিরোজপুর-১), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫) প্রমুখ। লেবার পার্টি ৬টি, গণফোরাম ১৫টি, এনডিএম ১০টি এবং এলডিপি ১৩টি আসনের তালিকা জমা দিয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। যদিও এনসিপি নিজস্বভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তবুও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন