আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে তারা ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত’।
ট্রাম্পের শুক্রবারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে চীনের সাম্প্রতিক ‘দুর্লভ মাটির’ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পর চীনের এই প্রতিক্রিয়া আসে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)। ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ’ আরোপ করবে।
নতুন এই বাণিজ্য উত্তেজনা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ধাক্কা দিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকরা।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেন, শুল্ক যুদ্ধ এবং বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়ে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত। আপনি যদি লড়াই করতে চান, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব; আপনি যদি আলোচনা করতে চান, আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সংলাপ চাওয়ার সময় অন্যদিকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিতে পারে না। এটি চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সঠিক উপায় নয়।
এর আগে রবিবার ট্রাম্প তার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তুলনামূলকভাবে নরম সুরে বলেন, ‘সব কিছু ঠিক হবে,’ এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনের সহায়তা করতে চায় বলে মন্তব্য করেন।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত নতুন সরকারি তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে চীনের রফতানি কার্যক্রম স্থিতিশীল থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৮.৩ শতাংশ, যা মার্চের পর সর্বোচ্চ এবং পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। বিশেষভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের রফতানি বেড়ে ৩৪.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমপক্ষে ৩০ শতাংশ, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আরোপিত। অন্যদিকে চীনের পাল্টা শুল্ক ১০ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী এই শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব এখন কেন্দ্রে রয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের অর্ধবার্ষিক বৈঠক চলাকালীন।
হোয়াইট হাউসের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হবে, কারণ এখন পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/শরিফ