খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর)। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন উৎসব, যা চলবে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
কুষ্টিয়া শহরতলির ছেঁউড়িয়ায় কালীগঙ্গা নদীর তীরে লালন আখড়া বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
লালনের গানের মাধ্যমে তাঁর দর্শন ও বাণী পৌঁছে দেওয়া হবে অসংখ্য মানুষের কাছে। আজ বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।
বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক (১৬ অক্টোবর) ছেঁউড়িয়ায় সাধক লালন সাঁই দেহত্যাগ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর তাঁর অনুসারীরা আখড়া বাড়িতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছেন। এবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয়ভাবে আয়োজিত হয়েছে লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালন অনুসারী, সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্তরা ছেঁউড়িয়ায় এসে জড়ো হয়েছেন এবং আসছেন এখনও। ছোট ছোট দলে তাঁরা লালনের গান গেয়ে চলেছেন, যার মধ্য দিয়ে তাঁরা মহান সাধকের বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন সর্বত্র। লালনের আখড়া এখন পরিণত হয়েছে গুরু-শিষ্যের এক মিলনমেলায়। আয়োজকরা মনে করছেন, এবার আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বাউলদের উপস্থিতি বেশি হবে।
ছেঁউড়িয়ায় আগত লালনভক্ত ও বাউল রিদয় শা বলেন, ‘মানবতাবাদী মহান সাধক মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজি ছিলেন বাঙালি অসাম্প্রদায়িক ও মরমি চেতনার প্রতীক। আমি নিয়মিত তাঁর ধামে আসি।’ তিনি আরও বলেন, ‘লালনের কালজয়ী বাণী ও সুরের গভীরে প্রবেশ করতে চাইলে ছেঁউড়িয়ায় আসতেই হয়।’
এদিকে তিরোধান দিবস উপলক্ষে উৎসব প্রাঙ্গণে চলছে গ্রামীণ মেলার প্রস্তুতি। দেশের নানা এলাকা থেকে দোকানিরা এসে দোকান বসিয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী, এবারের মেলাতেও ভালো বিক্রি হবে। সব আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হলেও শেষ মুহূর্তের ঘাটতি এড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালন একাডেমির কর্মকর্তারা। বিশাল আয়োজন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ারসহ বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন জানান, এবারের তিরোধান দিবসের আয়োজন কিছুটা বিশেষভাবে করা হয়েছে। লালন অনুসারীদের মতে, লালনের অহিংসার বাণী যদি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলেই সার্থক হবে এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।
খবরওয়ালা/টিএসএন