অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির রাসায়নিকের গুদাম থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের ইপিজেড এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দিনের ব্যবধানে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, ছাই হয়ে গেছে বহু স্বপ্ন। মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে গেছে হাজার কোটি টাকার মালামাল। ধারাবাহিক এসব অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত নাকি নিছক দুর্ঘটনা—এমন প্রশ্ন জাগিয়েছে জনমনে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে রাজধানীতে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে একটি মিরপুরের শিয়ালবাড়ির রাসায়নিকের গুদামে এবং অন্যটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। একই সময়, ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার একটি তোয়ালে কারখানায় আগুন লাগে। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সর্বশেষ আগুন লাগে শনিবার দুপুর সোয়া ২টায়।
ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ সময় নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, দুই প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ-আনসারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ জানিয়েছেন, সন্ধ্যা নাগাদ আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি আগুন নেভানো যায়নি।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ মূলত পোস্ট অফিস ও হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি জায়গায়, আট নম্বর গেটের পাশে। আগুন লেগেছে আমদানির কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে, যেখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়। আগুনে সেখানকার প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, আগুনের কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঢাকার বদলে সব বিমান চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবতরণ করেছে। এর মধ্যে আটটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে, তিনটি ফ্লাইট সিলেটে, চেন্নাই ও দিল্লি থেকে দুটি ফ্লাইট কলকাতায় অবতরণ করেছে। এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও ট্যাক্সিওয়েতে অপেক্ষা করছে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী বাটিক এয়ারের ওডি-১৬৩ ফ্লাইট এবং ঢাকা থেকে মুম্বাইগামী ইন্ডিগোর ৬ই-১১১৬ ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়েতে অপেক্ষা করছে। ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চট্টগ্রামে, দিল্লি থেকে আসা ইন্ডিগোর ফ্লাইট কলকাতায় অবতরণ করেছে। এয়ার এরাবিয়ার শারজাহ থেকে ঢাকা আসা ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। হংকং থেকে ঢাকা আসা ক্যাথে প্যাসিফিকের বিমান আকাশে চক্কর দিচ্ছে।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রী টার্মিনাল আগুনের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে।
তথ্য অনুযায়ী, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার ফাইটার, সিভিল অ্যাভিয়েশন, আনসারসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আনসার ও ভিডিপির গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমাদের এক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ৯ জনকে সিএমএইচে এবং বাকিদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তাহলা বিন জসিম জানান, দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে খবর পেয়ে প্রথমে ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ হয়ে মোট ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মিরপুর শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনে ১৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আরও অনেকে দগ্ধ হয়েছেন। এখানে চারতলা ‘আনোয়ার ফ্যাশন’ পোশাক কারখানা ও পাশে থাকা টিনশেড ঘরে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
খবরওয়ালা/শরিফ