খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কয়েকদিন আগেই বিমানবন্দরগুলোতে জারি হয়েছিল সর্বোচ্চ সতর্কতা। অথচ সেই সতর্কতার মধ্যেই ঘটে গেল দেশের ‘হৃদপিণ্ড’খ্যাত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজিরবিহীন অগ্নিকাণ্ড—যেখানে মূল্যবান পণ্য ও সরঞ্জাম জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। আজ সকালে এক ফেসবুক পোস্টে নাগরিক সাবেক সংসদ সদস্য,রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি লিখেছেন, “বিমানবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি হলো কয়েক দিন আগে। আর তারপরই ঘটলো দেশের হৃদপিণ্ড হিসাবে পরিচিত প্রধান বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে নজিরবিহীন অগ্নিকাণ্ড! সবকিছু জ্বলে পুড়ে ছারখার!”
তিনি আরও বলেন, “আজ আবার খবর বের হয়েছে—পুলিশ বাহিনীকে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। কি আছে দুর্ভাগা জাতির কপালে, তা কেবল আল্লাহই জানেন।”
এর আগে শনিবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারাদেশের সব পুলিশ ইউনিটকে কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে আগুন লাগার পরই এই নির্দেশ জারি করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় অতিরিক্ত টহল, নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ একত্রে দেশজুড়ে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব ঘটনার পেছনে নাশকতার কোনো সূত্র আছে কি না—তা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নাশকতার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড