আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
দক্ষিণ কোরিয়ার ওসান (Osan) নগরে এক যুবতী আরশোলা (তেলাপোকা) নিধন করতে গিয়ে নিজের বাসস্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এই ভয়াবহ ঘটনায় তার এক প্রতিবেশী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্যানুসারে জানা গেছে, বিশোর্ধ্ব বয়সী ওই তরুণী গত সোমবার বিকেলে একটি লাইটার এবং দাহ্য স্প্রে একত্রে ব্যবহার করে তেলাপোকাটি পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। ফলস্বরূপ, কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ঘরের আসবাবপত্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুরো ফ্ল্যাটে বিস্তার লাভ করে।
দমকল বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে যায়। ভীতসন্ত্রস্ত বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। পঞ্চম তলায় বসবাসকারী এক চীনা দম্পতি জানালা দিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন এবং তাদের দুই মাস বয়সী শিশুটিকে পাশের প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেন। তবে, ধোঁয়ার কারণে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার পথ বন্ধ থাকায় ওই দম্পতির স্ত্রী নিচে পড়ে যান এবং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া নারীটি ৩০ বছর বয়সী চীনা নাগরিক ছিলেন। ওসান পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগানোর এই ঘটনায় তরুণীর বিরুদ্ধে অসতর্কতাবশত অগ্নিসংযোগ এবং মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হতে পারে।
ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, লাইটার ও স্প্রে একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। ঘটনাস্থল থেকে লাইটার, স্প্রে এবং দাহ্য পদার্থের কিছু অবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফ্লেমথ্রোয়ারের’ (আগুন নিক্ষেপকারী যন্ত্র) মতো কৌশল ব্যবহার করে পোকামাকড় মারার ভিডিও প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটার নজির আছে। যেমন, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
খবরওয়ালা/টিএসএন