খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬৭ হাজার ৮৯০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ইসরায়েল–ফিলিস্তিন বা ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে নিহতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
আগামীকাল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস–২০২৫ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন খাতে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল। অব্যবস্থাপনা, মালিক–শ্রমিকদের চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, সড়কের ত্রুটি, মাদকাসক্ত চালক ও বেপরোয়া গতি—এসব কারণেই দেশে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।
সংগঠনটির দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে দাতা সংস্থার ‘প্রেসক্রিপশন’ মেনে একের পর এক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হয়েছে বেহিসেবি লুটপাট। নৌ ও রেল যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে না তুলে অতিরিক্ত সড়কনির্ভরতা তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনাও বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভাষায়, ‘সড়কে এই গণহত্যার জন্য’ বিগত সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতি দায়ী। সংগঠনটি আরও মনে করে, সরকার পরিবর্তনের পরও পরিবহন খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগে নীতিগত সংস্কার হয়নি—এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সড়ক খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব নয়।
নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামনে রেখে সংগঠনটি জরুরিভিত্তিতে ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নৌ ও রেলপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সমন্বয় করে সমন্বিত যাতায়াত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে পরিবহনখাত সংস্কার, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে পাতাল মেট্রোরেল চালু, বিভাগীয় শহরগুলোতে ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক বাস র্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থা তৈরি, জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত শক্তিশালী বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আমদানি বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
এ ছাড়া প্রস্তাবে রয়েছে—রাষ্ট্রীয় খরচে চালক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম ডিজিটাল করা, ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি স্থাপন, সড়ক দুর্ঘটনার মামলা সরকারি উদ্যোগে আমলে নেওয়া ও হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সংগঠনটি আরও বলেছে, যাত্রীস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ফোরামে ভুক্তভোগী ও যাত্রী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক খাতে আইনের সুশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সাইক্লিস্ট ও পথচারীদের জন্য পৃথক লেন ও নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান, বারভিটার সভাপতি আবদুল হক এবং ড্রাইভার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদ প্রমুখ।