অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে কার্তিক ১৪৩২ | ২২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আইসল্যান্ডের আবহাওয়া পোকামাকড়ের জন্য অনুকূল হয়ে উঠছে— আর এর ফলেই দেশটিতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মশা পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি মাস পর্যন্ত আইসল্যান্ড ছিল পৃথিবীর কয়েকটি অঞ্চলের একটি, যেখানে কোনো মশা ছিল না। এই তালিকায় বর্তমানে কেবল অ্যান্টার্কটিকার নামই রয়ে গেছে।
আইসল্যান্ডের ন্যাচারাল সাইন্স ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদ ম্যাথিয়াস আলফ্রেডসন মশা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিজ্ঞানীর পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে তিনিই মশাগুলো শনাক্ত করেন।
ম্যাথিয়াস আলফ্রেডসন বলেন, কিডাফেলে, কিওস-এ এই প্রজাতির তিনটি নমুনা পাওয়া গেছে— দুটি স্ত্রী ও একটি পুরুষ। এগুলো সবই মথের জন্য পাতা ওয়াইন ফাঁদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুদিন ধরেই ধারণা করা হচ্ছিল যে একসময় আইসল্যান্ডে মশা দেখা যাবে। কারণ দেশটিতে রয়েছে মশার প্রজননের উপযোগী অনেক স্থান— যেমন জলাভূমি ও পুকুর। তবে এতদিন পর্যন্ত কঠোর আবহাওয়ার কারণে সেখানে মশার টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।
এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। আইসল্যান্ডে তাপমাত্রা উত্তর গোলার্ধের গড় হারের চেয়ে চার গুণ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, আর দক্ষিণের উষ্ণ অঞ্চলের মাছ— যেমন ম্যাকেরেল— এখন আইসল্যান্ডের পানিতেও ধরা পড়ছে।
বিশ্ব উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন প্রজাতির মশাও দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। যুক্তরাজ্যে এ বছর মিশরীয় মশার ডিম পাওয়া গেছে, আর এশীয় টাইগার মশা শনাক্ত হয়েছে কেন্ট এলাকায়। এই দুই প্রজাতিই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ ছড়াতে সক্ষম।