খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
ঢালিউডের ইতিহাসে এখনো আলাদা করে চেনা যায় তাকে— অনন্য অভিনয়শৈলী, স্টাইল আর ব্যক্তিত্বে যিনি মুগ্ধ করে রেখেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অবিস্মরণীয় তারকা। তিনি চিত্রনায়ক সালমান শাহ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, এক ভয়াবহ ও রহস্যময় রাতে মৃত্যুবরণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। দীর্ঘ সময় ধরে তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও, প্রায় তিন দশক পর মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গতি পেয়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৯৭ সালে দেয়া এক আসামির জবানবন্দি, যা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভি আহমেদ ফরহাদ তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানান, “আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি, কিন্তু ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়।” তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, যিনি হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন।
রেজভীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলিস্তানের এক বারে বসে হয় সেই ‘মরণচুক্তি’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী নিজে। পরে আসে ছাত্তার ও সাজু নামে আরও দুইজন। ফারুক জানায়, “সামিরার মা কাজটা শেষ করলে ১২ লাখ টাকা দেবেন।” সেখানেই আগাম ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয় প্লাস্টিকের দড়ি, সিরিঞ্জ, রিভলবার ও ক্লোরোফর্ম।
রেজভীর দাবি, সেই রাতেই (৬ সেপ্টেম্বর ভোরে) সালমান শাহর বাসায় যান ডন, ডেভিড, ফারুক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই। সালমান তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রথমে তাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করা হয়। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। আজিজ ভাই নির্দেশ দেন, “ইনজেকশন পুশ করো।” ইনজেকশন দেয়ার পর সালমান শাহ মারা যান।
এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে তার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। রেজভীর দাবি, সে রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরা, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি এবং আত্মীয়া রুবি।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর অবশেষে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ নয়, বরং ‘হত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত।
বর্তমান মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি হিসেবে আছেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।
অন্যান্য আসামিরা হলেন— আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
এক সময়ের ঢালিউড সম্রাট সালমান শাহর মৃত্যু আজো রহস্যে মোড়া, তবে এবার যেন নতুন করে জেগে উঠেছে ন্যায়বিচারের আশার আলো।
.এমএজেড