খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রিশাদ হোসেনের ছন্দে বাংলাদেশকে উচ্ছ্বাসে ভরা রাত উপহার দিয়েছে। স্পিন বোলিং কোচ মুস্তাক আহমেদ তার বাহু চাপড়ে উৎসাহ দেন। সৌম্য সরকার, সাইফ হাসানকেও পাশে টেনে আনে তিনি। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যে আনন্দ দেখা গেছে, তা যেন পুরো বাংলাদেশ দলের সুখী পরিবারের মতো। খোলা মাঠের উচ্ছ্বাস ও ড্রেসিংরুমের বাঁধভাঙা খুশি মিলিয়ে ম্যাচের আনন্দ পূর্ণ হয়ে ওঠে।
মেহেদী হাসান মিরাজ ও তার দলকে খুশি হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। টানা চারটি সিরিজ হারের পর, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত কিছু সময় ভালো খেলতে পারছিল না। গত বছর থেকে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল দল। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব পান মিরাজ। এরপর থেকে তিনি ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পান শ্রীলঙ্কা সফরে। তার নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশের তিনটি জয়। শ্রীলঙ্কা সফরে একটি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে র্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে ওঠার সুযোগ ছিল। তবে সুপার ওভারে দ্বিতীয় ম্যাচ হারের কারণে সে সুযোগ হাতছাড়া হয়। শেষ ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলায় সমর্থকদের হতাশা কাটিয়ে গেছে। এবার টি২০ সিরিজে স্বস্তিতে খেলতে পারবে বাংলাদেশ।
গতকালের ম্যাচে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান দারুণ পারফর্ম করেন। টার্নিং উইকেটে তাদের ব্যাটিং ছিল অবিশ্বাস্য। তারা গড়ে তোলে ১৭৬ রানের জুটি, যা দেশের দ্বিতীয় সেরা ওপেনিং জুটি। দেশের সেরা ওপেনিং জুটি ২০২০ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাসের ২৯২ রানের জুটি।
ওপেনিং ওভারে আকিল হোসেনের দুটি বাউন্ডারি মারার মাধ্যমে ইনিংস শুরু করেন সাইফ হাসান। এই বাঁহাতি স্পিনারের বলেই প্রথম ছয় হাঁকান তিনি। সৌম্যও খেলতে খেলতে নিজেকে খুলে দেন। এই জুটি মিলিয়ে ইনিংস পৌঁনে দুইশ রানে টেনে নেয়। ৪৫ ইনিংস পর ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশ শতরানের দেখা পায়।
রিশাদ-সৌম্য দুজনেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। সৌম্যকে দলে নেওয়া হয় পারভেজ হোসেন ইমনের কাঁধের চোটের কারণে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সুযোগ পাওয়ার সৌম্য নিজেকে প্রমাণ করেন। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৪ রান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৫ রান করেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন; ৮৬ বলে ৯১ রান করেন, ১০৫.৮১ স্ট্রাইকরেটে।
সাইফ হাসান ষষ্ঠ ওয়ানডেতে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পান। ৭২ বলে ৮০ রান করেন, ছয়টি করে ছয় ও চার মারেন। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তও ৫৫ বলে ৪৪ রান করে দলের সংগ্রহে অবদান রাখেন। এই তিন ইনিংসে মিলিয়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান করে। আকিল হোসেন চার ও অ্যাথেনাক দুই উইকেট নেন।
২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৭ রানে অলআউট হয়। চার স্পিনার মিলে ১০ উইকেট শিকার করেন। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন তিনটি করে, মেহেদী হাসান ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।
— খবরওয়ালা / এমএজেড